পুরো রমজানজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যে পাঠঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টানা ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ, রোববার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে অতিরিক্ত ক্লাস সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনো জারি হয়নি। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই—সম্ভবত মঙ্গলবার অথবা বুধবার—শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৪০ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। তবে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শ্রেণি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে রোববার থেকে। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, গত ১৯ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, ঈদের পরপরই অতিরিক্ত ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তখন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে জানানো হবে। এমনকি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এটি প্রজ্ঞাপন বা চিঠি আকারে জারি করা হবে কিনা, তাও বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইতোমধ্যেই ছুটি শেষে পাঠঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ক্লাস চালুর প্রস্তুতি নিতে দেশের সব মাদরাসা প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাদরাসাগুলোতেও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এরও আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, রমজান মাসে যে ১৮ দিনের পাঠদান ঘাটতি তৈরি হবে, তা কীভাবে কার্যকরভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকারের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানসহ বিভিন্ন ছুটি মিলিয়ে মোট ৩৬ দিনের টানা ছুটি শুরু হয় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। যদিও পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ থেকে, কিন্তু তা পরিবর্তন করে আগেভাগেই ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়। এর ফলে অতিরিক্ত ১৮ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকে।
টানা ৩৬ দিনের ছুটি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি ৩৬ দিন হলেও প্রকৃত কর্মদিবস হিসেবে এটি ২৬ দিন। কারণ, এই সময়ের মধ্যে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবারের ছুটি এবং স্বাধীনতা দিবস ও ঈদের সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ ছিল মাত্র ১৮ দিন।
Leave a Reply