শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় যেমন দুর্নীতির কোনো ছোঁয়া তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, তেমনি ভবিষ্যতেও কোনোভাবেই দুর্নীতি তার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, একজন মন্ত্রী হিসেবে যদি তিনি নিজে সততা বজায় রাখেন এবং দুর্নীতিমুক্ত থাকেন, তাহলে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়েও দুর্নীতি প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এটিকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখেই তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও তুলে ধরেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং একটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং একটি উন্নত, দক্ষ ও কর্মসংস্থানমুখী জাতি গঠনের জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এই কারণেই একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে তাকে ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটা ত্যাগ করে হলেও শিক্ষার উন্নয়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।
ড. মিলন আরও বলেন, এক পর্যায়ে একটি সভায় তিনি আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন কেবল একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং এটিকে তিনি নিজের জন্য একটি ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে মনে করেন। তার কাছে এই দায়িত্ব পালন করা যেন এক ধরনের ইবাদত বা পবিত্র দায়িত্ব পালন। তিনি মনে করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য সাধারণ মন্ত্রণালয়ের মতো নয়; বরং এই মন্ত্রণালয়ের ওপরই নির্ভর করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠন। তাই এই মন্ত্রণালয়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করে দেশের জন্য একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাস ছিল—যদি কখনো তিনি বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান, তাহলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন কাজ করে যাচ্ছেন এবং একটি আধুনিক, কার্যকর ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন।
Leave a Reply