দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকার খুব সাধারণ ও সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলেও জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই দেশের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও বড় একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং কোচিং বাণিজ্য আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে একটি জরিপে উঠে এসেছে জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। জরিপ অনুযায়ী, মোট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, লটারি পদ্ধতি বাতিল করা হলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং কোচিং ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এসব অনিয়ম বাড়বে না। এছাড়া ২ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে কোনো মতামত প্রকাশ করেননি।
এই জরিপটি পরিচালনা করে দৈনিক শিক্ষাডটকম। তাদের ওয়েবসাইটে গত ১৯ মার্চ দুপুর থেকে শুরু হয়ে ২০ মার্চ দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এই জরিপ চালানো হয়। এতে মোট তিন হাজার ৫৩০ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন দুই হাজার ৫৪৯ জন, অর্থাৎ তারা মনে করেন লটারি বাতিলের ফলে অনিয়ম বাড়তে পারে। অপরদিকে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ৯৩২ জন, যারা মনে করেন এই আশঙ্কা সঠিক নয়। এছাড়া ‘মন্তব্য নেই’ অপশনটি বেছে নিয়েছেন ৪৯ জন অংশগ্রহণকারী।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল— ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কোচিং ব্যবসা বাড়বে— আপনি কি এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত? অংশগ্রহণকারীরা ‘হ্যাঁ’, ‘না’ এবং ‘মন্তব্য নেই’—এই তিনটি অপশনের মধ্যে তাদের মতামত প্রদান করেন।
এর আগে ১৬ মার্চ সোমবার দুপুরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে, সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে খুবই সাধারণ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হতে পারে।
পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ওই পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি আর কার্যকর থাকবে না। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বিদ্যমান দুটি নীতিমালার কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply