পুরো রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে সৃষ্ট পাঠঘাটতি পুষিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাধারণ স্কুল ও কলেজ পর্যায়েও অতিরিক্ত ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছুটির সময় কিছুটা কমিয়ে আনা হতে পারে। তবে ছুটি ঠিক কতটা কমানো হবে বা কীভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে নির্দেশনা পাঠানো হবে, সেই চিঠিতেই এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে পারে।
বুধবার (১৮ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সেই সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো যায় কিনা, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন যে পাঠঘাটতি পূরণের উদ্যোগের কথা বলেছিলেন, তার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঈদের ছুটি শেষে অতিরিক্ত ক্লাস চালুর জন্য দেশের সব মাদ্রাসা প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, রমজান মাসে ক্লাসের সময় কমে যাওয়া, উপস্থিতি কম থাকা এবং নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করতে বিলম্ব হওয়ায় এই অতিরিক্ত ক্লাসের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পাঠসূচি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ক্লাস নেওয়া কিংবা প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস আয়োজনের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ক্লাস মনিটরিং জোরদার করা এবং প্রয়োজন হলে অনলাইন বা সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, ঈদের পর শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের ‘ক্যাচ-আপ প্রোগ্রাম’ চালু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে রমজানে সৃষ্ট শিক্ষাগত ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
Leave a Reply