রমজান মাসে দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট পাঠদানের ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার জন্য দেশের সব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (১৬ মার্চ) জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনস্থ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের ছুটির ফলে নির্ধারিত পাঠ্যসূচিতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস সম্পন্ন করতে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পুরো রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটিতে পাঠঘাটতি পুষিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এবার স্কুল-কলেজেও অতিরিক্ত ক্লাসের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ঈদের পরে এমন চিঠি আসবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো ডিসিশন আসতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জানাবেন আমাদের। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্তের পর এটা চিঠি আকারে দেয়া যায় কিনা আমরা চিন্তা করছি।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পাঠঘাটতি পোষানোর পদক্ষেপের বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। তাই ছুটি শেষে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সব মাদরাসা প্রধানকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পূর্বে জারি করা নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ক্লাস, বিশেষ পাঠদান পরিকল্পনা এবং সময়সূচির পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বক্তব্যে বলেন, রমজান উপলক্ষে সৃষ্ট প্রায় ১৮ দিনের পাঠদান ঘাটতি কীভাবে কার্যকরভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের সুপরিকল্পিত উদ্যোগ রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানসহ বিভিন্ন ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা প্রায় ৩৬ দিনের ছুটি কার্যকর হয়। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এই ছুটি ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়। ফলে অতিরিক্ত ১৮ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকে, যা সামগ্রিক শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ে আগে থেকেই পুরো রমজান মাসজুড়ে ছুটি ঘোষণা করা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভিন্নতা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই সব স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সমতা নিশ্চিত করতেই ছুটির সময়সূচিতে এই সমন্বয় আনা হয়েছে।
Leave a Reply