নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি ও এডহক কমিটি গঠন নিয়ে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত নতুন করে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রবিধানমালা (৩১ আগস্ট ২০২৫ সংশোধনীসহ) অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।
এডহক কমিটির সভাপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি এসেছে শিক্ষাগত যোগ্যতায়। এখন থেকে সভাপতির ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি কঠোর কোনো বাধা নয়—যদি কোনো ব্যক্তি শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখেন বা বিশেষ যোগ্যতার অধিকারী হন, তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষিত নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সমাজের অভিজ্ঞ ও নিবেদিত ব্যক্তিরাও সুযোগ পাবেন।
সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়াটিও এখন আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে, যেখানে মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্যান্য অঞ্চলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের ভূমিকা থাকবে। প্রস্তাবনায় তিনজন যোগ্য ব্যক্তির নাম ও জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত করতে হবে। এই তালিকায় সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির কর্মচারী (বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত), শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, সমাজসেবক বা প্রতিষ্ঠাতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে।
এই নতুন নির্দেশনার ফলে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়। প্রথমত, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কমে গিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা থাকায় প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকার কারণে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকবে।
তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও থাকতে পারে। যেমন—যোগ্য ব্যক্তির অভাব, প্রস্তাবনা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, সময়সীমা নির্ধারণ এবং মনিটরিং জোরদার করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, এডহক কমিটি গঠনের এই নতুন নির্দেশনা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply