মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
লাইভ মার্কেট ডেটা অনুযায়ী, শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯২.৬২ ডলারে ওঠে। পরদিন রোববার (৮ মার্চ) সেই দাম আরও বেড়ে ৯৩.৩২ ডলারে দাঁড়ায়, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ ডলার বেশি। এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে তেলের দাম ৭.৫৩ ডলার বা প্রায় ৯.৩০ শতাংশ বেড়েছিল, যা বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দামও দ্রুত বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের মুরবান ক্রুড তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০২.২০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। শুধু শুক্রবারেই এর দাম ৬.০৪ ডলার বা প্রায় ৬.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বড় গ্যাস উৎপাদক কাতারের কাছে ইরানের সামরিক তৎপরতার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা বেড়েছে। সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, ন্যাচারাল গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩.১১৬ ডলারে, যা আগের ৩.০৯১ ডলার থেকে কিছুটা বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসেরও প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।
ম্যারিনট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টি তেল ট্যাঙ্কার, কার্গো ও কনটেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ নিজেদের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেছে, যা পরিস্থিতির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নির্দেশ করে।
রোববার তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply