এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য পরিচালিত অবসর সুবিধা বোর্ডের চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং তাদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্টরা এসব সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সভায় জানানো হয়, অবসর সুবিধা বোর্ডের বিদ্যমান সুবিধাগুলো সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তার সুবিধা-অসুবিধা কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ এবং একটি কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তিনটি সভা করেছে। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৫ জুন ২০২৫, দ্বিতীয়টি ২১ জুলাই এবং তৃতীয় সভা ৭ অক্টোবর। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও একটি সভা দ্রুত আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আলোচনায় উঠে আসে যে, অবসর সুবিধা বোর্ডে বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় আবেদনকারীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। এই আবেদনজট নিরসনে মাসভিত্তিক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দ্রুত আরেকটি সভা ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অবসর সুবিধা বোর্ডে জমাকৃত বিপুলসংখ্যক আবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি মাসিক সমন্বয় সভায় আগের মাসে কতগুলো আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে তার হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক-২ অনুবিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে।
Leave a Reply