বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন সময়মতো পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘদিনের যে উদ্বেগ রয়েছে, সেটি আবারও সামনে এলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সভাকক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট ভাষায় জানান, মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, কোনো মাসে বিশেষ কারণবশত বেতন প্রদানে বিলম্ব হলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, কেন হলো না—সেটি আমরা পর্যবেক্ষণ করবো,’—এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন যে প্রশাসনিক জটিলতা বা কারিগরি সমস্যার কারণে যেন ভবিষ্যতে দেরি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত শিক্ষকরা সরকারের মাসিক বেতন ভাতা (এমপিও) স্কিমের আওতায় বেতন পান। তবে অতীতে বিভিন্ন সময়ে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, হিসাব নিরীক্ষার জটিলতা কিংবা বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগত কারণে শিক্ষকদের বেতন পেতে দেরি হয়েছে—যা শিক্ষক সমাজে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমপিও বিল প্রস্তুত ও ছাড়ের কাজ দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ শিক্ষকদের হিসাবে পৌঁছে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তবে ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ‘আপনারা শিক্ষকতা করবেন, ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলন করবেন—এটা তো হতে পারে না,’—বলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি সরকার শুনবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করবে।
দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী নিজ অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে অতীতে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটি তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং প্রমাণিত হলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বার্তা একদিকে যেমন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করার প্রতিশ্রুতি বহন করছে, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। এখন দেখার বিষয়—সরকার ঘোষিত এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষকদের আস্থা কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং শিক্ষা খাতে স্থিতিশীলতা কতটা নিশ্চিত হয়।
Leave a Reply