অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পে-স্কেল প্রণয়ন কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যে আলোচনা ও আগ্রহ ছিল, এই বৈঠক তারই আনুষ্ঠানিক অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথম বৈঠকে মূলত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কাঠামো, আর্থিক প্রভাব, বৈষম্য নিরসন এবং বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এর আগে সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন গ্রহণ করে—
এই তিন কমিশনের সুপারিশে বেতন কাঠামোর অসামঞ্জস্য, গ্রেড পুনর্বিন্যাস, ইনক্রিমেন্ট হার, ভাতা কাঠামো, পেনশন সুবিধা এবং বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বিবেচ্য বিষয়গুলো উঠে আসে। এসব সুপারিশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত মতামত দেওয়ার জন্যই প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন—
এই বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে প্রশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ও প্রতিরক্ষা খাতের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয় গত বছরের ২৭ জুলাই। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে কমিশনটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর কাছে জমা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রায় এক দশক পর মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়। সরকারি চাকরিজীবীরা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন পুনঃনির্ধারণ, টাইম স্কেল পুনর্বহাল, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি এবং পেনশন সুবিধার উন্নয়ন চেয়ে আন্দোলনও করেন।
নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে সম্ভাব্য যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে—
প্রণয়ন কমিটি তিন কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ করে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কিংবা আংশিক কার্যকর করার সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা করছেন, নতুন পে-স্কেল হবে বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী। দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য, পদোন্নতি জটিলতা এবং গ্রেড বিভাজন সমস্যার সমাধানও তারা চান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় রক্ষা করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে, পে-স্কেল প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক নবম বেতন কাঠামোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এখন চোখ থাকবে—কমিটি কত দ্রুত সুপারিশ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে এবং সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
Leave a Reply