1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

অসঙ্গতিতে ভরা শিক্ষা আইন নির্বাচনের পূর্বে পাশের তড়িঘড়ি

  • Update Time : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪০ Time View
অসঙ্গতিতে ভরা শিক্ষা আইন নির্বাচনের পূর্বে পাশের তড়িঘড়ি

আগামী ১২ তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে শিক্ষা আইন-২০২৬ প্রণয়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অংশীজনদের দাবি, আইনটি তৈরির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় ও মতামত গ্রহণের সুযোগ না দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, গত ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ করা হলেও মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার তিন দিন সরকারি ছুটি থাকায় কার্যত মতামত দেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন তাড়াহুড়োকে তারা অগণতান্ত্রিক ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। পাশাপাশি সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে এত গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও শিক্ষাবিদদের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচনের আগে শেষবারের মতো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৈঠকেই শিক্ষা আইন-২০২৬ এর প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হতে পারে।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালনের একেবারে শেষ সময়ে এসে হঠাৎ শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সময়োপযোগী বা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে খসড়া প্রকাশ করে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মতামত আহ্বান করা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করলেও শিক্ষার জন্য কোনো সংস্কার কমিশন গঠন করেনি। তিনি মনে করেন, সরকার যদি শুরু থেকেই একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে তার সুপারিশের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করত, তাহলে তা অধিক গ্রহণযোগ্য হতো। কিন্তু মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন প্রণয়ন করলে তা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, অংশীজনদের মতামত না নিয়ে এবং সংবিধান, জাতীয় শিক্ষানীতি ও অন্যান্য নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় না করে আইন প্রণয়ন করা হলে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

সংশ্লিষ্টরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের মাধ্যমিক শিক্ষা সংস্কারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই খসড়া আইন প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে ওই কমিটির সুপারিশসমূহ আইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্বে গঠিত পরামর্শক কমিটির শতাধিক সুপারিশের বেশিরভাগই এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আনতে হলে একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামো প্রয়োজন, যা পর্যাপ্ত পর্যালোচনা ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করা উচিত।

শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক প্রফেসর এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া শিক্ষা আইন প্রণয়ন করলে শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে, সীমিত মেয়াদের অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে কোনো জনসম্পৃক্ততা ছাড়া এই আইন প্রণয়ন সময়োপযোগী নয়। তার মতে, এ ধরনের আইন অনুমোদিত হলে তা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং মুক্ত নাগরিক আলোচনার সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করবে।

অধ্যাপক মজিবুর রহমান আরও বলেন, শিক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার ফলও দীর্ঘ সময় পর পাওয়া যায়। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা আইন প্রণয়নের কোনো স্পষ্ট গণম্যান্ডেট নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তারা এই আইন পরিবর্তন, বাতিল অথবা উপেক্ষা করতে বাধ্য হতে পারে।

খসড়া শিক্ষা আইন-২০২৬ নিয়ে শিক্ষাবিদরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, এতে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। ১১ অধ্যায় ও ৫৭ ধারার এই আইনের খসড়ায় বহু বিষয়ে দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও কোনো সংস্কার করা হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো আইন পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, খসড়ায় প্রাথমিক শিক্ষাকে শুধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে, যা ১৯৯০ সালের আইনের পুনরাবৃত্তি। অথচ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছিল।

এ ছাড়া খসড়া আইনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক মাধ্যমিক শিক্ষা চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে কোচিং, প্রাইভেট টিউশন ও নোট-গাইড আরও কয়েক বছর চালু রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পূর্বে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নোট-গাইড নিষিদ্ধ ছিল এবং শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো নিষিদ্ধ ছিল। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এই বিষয়গুলো উপেক্ষা করা সংস্কারের মূল চেতনার পরিপন্থী।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, খসড়া আইনে শিক্ষক নিয়োগ, কওমি মাদ্রাসার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিষয়ে ভাষা অস্পষ্ট। যদিও শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু শাস্তির বিধান স্পষ্ট করা হয়নি। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বজনীন করা, বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা নেই।

শিক্ষাবিদরা আরও অভিযোগ করেছেন, খসড়া আইনে শিক্ষা প্রশাসনকে জেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী করার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বরং অধিকাংশ ক্ষমতা কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের হাতে রাখা হয়েছে। এছাড়া আইনে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

পাঠ্যক্রম বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম বাধ্যতামূলক থাকবে এবং এনসিটিবি সাধারণ পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ করবে। এর ফলে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে। এতে সাম্যতা বাড়তে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বা ভিন্নধর্মী শিক্ষাক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারায় অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর ইন্টেলেকচুয়াল রিফর্ম অ্যান্ড থটস (সিআইআরটি)। তাদের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষার সংজ্ঞা এবং এর শিক্ষাগত স্তর নির্ধারণে আইনে বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা আইন প্রণয়নের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে বাধাস্বরূপ নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামো তৈরি করা। কিন্তু খসড়া আইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিধিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা আইন হতে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিপত্র রয়েছে। নতুন আইন হলে সব বিষয় একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আসবে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক প্রফেসর এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ মনে করেন, শিক্ষা আইন-২০২৬ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ আইন। তাই এটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত, প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং জাতীয় ঐকমত্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, বর্তমান পর্যায়ে আইনটি অনুমোদন না দিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা উচিত।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme