নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে চলমান আন্দোলনের কৌশলগত ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই সরকারের সময়ের মধ্যেই পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আগামী ৫ জানুয়ারি জেলা ও উপজেলায় ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারী নেতৃবৃন্দের আহ্বানের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বোঝা যায়, আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়; বরং বৃহত্তর কর্মসূচির জন্য শক্তি সঞ্চয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে চাপ সৃষ্টির কৌশলই এখানে মুখ্য।
এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারীদের ঘোষিত জাতীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওইদিন জাতীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচি শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গভাবে এতে অংশগ্রহণ করবেন। এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে—বেতন বৈষম্য ও পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) কর্মচারীদের দাবি একসূত্রে গাঁথা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এই অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি কাঠামোর সঙ্গে কাজ করলেও বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং প্রজ্ঞাপন জারি হলে এই বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘবের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই ৬ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিজেদের যৌক্তিক দাবি দৃশ্যমান করা এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আজ জোটের রাতের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে আন্দোলনের বর্তমান বাস্তবতা, সরকারের সময়সীমা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কর্মচারী সমাজের প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির চেয়ে কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত কর্মসূচিই সরকারের ওপর বেশি কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সে কারণেই ৫ জানুয়ারির মানববন্ধন স্থগিত রেখে ৬ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জোটের পক্ষ থেকে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে—কর্মসূচির লক্ষ্য ও দাবিসমূহ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের সম্পৃক্ত করা এবং কোনো প্রকার উসকানি বা বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পেশাজীবী নেটওয়ার্কে যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে জনমত গঠনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি কোনো একক গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি কর্মচারী সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। ৬ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশ ও পদযাত্রা সেই অধিকার আদায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে—যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও প্রস্তুত থাকি। এখনই সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে আন্দোলনকে সঠিক লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার।
Leave a Reply