বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত পৌনে চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও দ্রুত বেতন প্রাপ্তি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা চলতি সপ্তাহে অনুমোদনের সম্ভাবনা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে অনুমোদন শেষে তা এজি অফিসে যাবে। এই দীর্ঘ প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করার পরই শিক্ষক-কর্মচারীরা জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা হাতে পাবেন।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ডিসেম্বর মাসের বেতন ইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। জানুয়ারী মাসের বেতন কোন দিন নাগাদ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পাবেন তা এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না কারণ আগামীকাল সপ্তাহের শেষ দিন এবং আগামী সপ্তাহে শব-ই-বরাতের সরকারী ছুটি রয়েছে বিধায় জানুয়ারী মাসের বেতনের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে পেতে আগামী সপ্তাহের শেষ হয়ে যাবে। অতএব আগামী সপ্তাহে জানুয়ারী মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শিক্ষক কর্মচারীগণ জানুয়ারীর বেতন ফেব্রুয়ারীর ৭ তারিখের পূর্বে পাওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি নিশ্চিত নয়। বরং নির্বাচনী ছুটি শুরুর আগেই জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, প্রস্তাব পাঠানো থেকে বেতন হাতে পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রতা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তির চিত্রকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এই প্রক্রিয়া আবারও প্রমাণ করে যে, ইএফটি ব্যবস্থা চালু হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের কাঠামোগত জটিলতা এখনো কাটেনি। সময়মতো বেতন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার দাবি তাই আরও জোরালো হচ্ছে।
Leave a Reply