পৃথিবীতে সবকিছুর পরিবর্তন হয় কোন দিন না কোন দিন হয় না কেবল বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের প্রদানের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন। জানুয়ারী মাস শেষ হতে চললেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জানুয়ারী মাসের বেতনের প্রদানের কার্যক্রম এখনও তেমন কোন অগ্রগতি নাই। কার্যক্রম শুরু হয়নি বললে অবশ্য ভুল বলা হবে কেননা ইএফটি ড্যাশবোর্ডে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বিল গতকাল ২৭ তারিখ পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সাবমিট করেছেন। এখন সেই বিল মাউশির ইএমআইএস সেল একত্রিত করে পরবর্তী কার্যক্রম তথা মন্ত্র্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করবেন।
আজ বুধবার মাউশির ইএমআইএস সেলে যোগাযোগ করলে ইএমআইএস সেলের প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন সাহেব জানান আগামীকাল অথ্যাৎ বৃহস্পতিবার এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জানুয়ারী মাসের বেতন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে।
এমপিওভূক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ডিসেম্বর মাসের বেতন ইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। জানুয়ারী মাসের বেতন কোন দিন নাগাদ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পাবেন তা এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না কারণ আগামীকাল সপ্তাহের শেষ দিন এবং আগামী সপ্তাহে শব-ই-বরাতের সরকারী ছুটি রয়েছে বিধায় জানুয়ারী মাসের বেতনের মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে পেতে আগামী সপ্তাহের শেষ হয়ে যাবে। অতএব আগামী সপ্তাহে জানুয়ারী মাসের বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শিক্ষক কর্মচারীগণ জানুয়ারীর বেতন ফেব্রুয়ারীর ৭ তারিখের পূর্বে পাওয়ার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।
এর আগে গত মাসে ১৯ হাজার ৮২৫টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-১৭ হাজার ২০৩ ও কলেজ-২ হাজার ৬২২) মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। ফলে ডিসেম্বর মাসের ১ম ধাপে স্কুলের ৩ লাখ ১২২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ও কলেজের ৮৮ হাজার ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জিও জারি হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বিশেষ সুবিধা।
বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের (লট ১) বেতন ও ভাতাদির সরকারি অংশ (এক হাজার ৩৫ কোটি ২৩ লাখ চারশত সাতাশ টাকা চার পয়সা) টাকা ইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছিল।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান প্রতি মাসেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল দাখিল করেন। ওই বিল প্রথমে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংকে পাঠানো হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ হিসাব নম্বরে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মতো ও নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশিত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply