এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি–২০২৬ মাসের বেতন ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় পাঠানোর লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে, তা প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে কিছু উদ্বেগ ও দায়িত্বের বিষয় সামনে এনেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইএফটি কার্যক্রম শুরু হলেও মাঝপথে পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে অনলাইনে বিল সাবমিট বাধ্যতামূলক করায় পুরো প্রক্রিয়াটি আরও বেশি প্রতিষ্ঠাননির্ভর হয়ে পড়েছে।
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস (EMIS) সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে প্রতিটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আলাদাভাবে বিল সাবমিট করতে হবে। অর্থাৎ বেতন নির্ধারণ, কর্তন, আংশিক প্রাপ্যতা—সবকিছুর দায়ভার এখন সরাসরি প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর ন্যস্ত। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিকেন্দ্রীকরণ হলেও বাস্তবে এতে ভুলের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি বেতন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাও রয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে মৃত্যুবরণ, পদত্যাগ, সাময়িক বরখাস্ত বা অনুমোদনহীন অনুপস্থিতির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বিধিমোতাবেক প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে বিল সাবমিট করার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ মাউশি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—ভুল তথ্যের কারণে যদি কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন না যায় বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান হয়, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকেই বহন করতে হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রশাসনিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি শিক্ষক-কর্মচারীরাও তাদের ন্যায্য বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের তথ্যনির্ভর হয়ে পড়ছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধুমাত্র আইবাসে যাচাইকৃত (Valid) জনবলের তথ্যই বর্তমানে বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত রয়েছে। যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এখনও ভ্যালিড হয়নি, তারা জানুয়ারি–২০২৬ মাসের বেতনের তালিকা থেকেও বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। যদিও মাউশি জানিয়েছে যাচাই শেষে পরবর্তীতে তাদের যুক্ত করা হবে, তবে বাস্তবতায় এর অর্থ হচ্ছে—আরও অপেক্ষা, আরও ভোগান্তি।
সবশেষে, আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে জানুয়ারি–২০২৬ মাসের এমপিও বিল সাবমিট করার সময়সীমা নির্ধারণ করে মাউশি যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা সময়োপযোগী হলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—সব প্রতিষ্ঠান কি এত অল্প সময়ে নির্ভুলভাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবে? ইএফটি ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল বেতন প্রদানে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা। কিন্তু যদি এই ব্যবস্থায়ও বেতন পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুশ্চিন্তা, নির্ভরশীলতা ও দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকেই যায়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল আদৌ কতটা মিলবে—সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
Leave a Reply