বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ডিসেম্বর মাসের বেতন চলতি সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই বেতন পরিশোধ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী বুধবারের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে জিও বা সরকারি আদেশ জারি হওয়া জরুরি ছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছিল যে, ৭ তারিখের মধ্যে জিও জারি হলে সপ্তাহের শেষ দিকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেতন পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কিন্তু আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম—ইএমআইএস সেলের একজন কর্মকর্তা মোঃ জহির উদ্দিন সাহেব জানান যে, জিও আজ (বুধবার) অবধি জারি হয়নি। গত ১ জানুয়ারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাব পাঠালেও এখনো জিও জারি হয়নি। সূত্রটি আরও জানায়, যদি বুধবারের মধ্যেই জিও জারি করা যায়, তবে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ধাপে ধাপে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও এটাই সত্যি যে বুধবার সন্ধ্যা অবধি এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের জিও জারি হয়নি। বিধায় এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন এ সপ্তাহে আর হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা বলেন, তারা ইতোমধ্যে সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত আইবাস সিস্টেমে আপলোড করেছেন এবং একই সঙ্গে জিও জারির জন্য ফাইলও মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে যেহেতু জিও জারি হয়নি বুধবারের মধ্যে তাই এ সপ্তাহের মধ্যে তথা ৮ জানুয়ারির মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা আর নাই। তাই বেতন-ভাতা বিতরণ পরবর্তী সপ্তাহের আগে আরও হচ্ছে না এটা নিশ্চিত।
এছাড়া জানা গেছে, প্রতি মাসেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল দাখিল করেন। ওই বিল প্রথমে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংকে পাঠানো হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ হিসাব নম্বরে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মতো ও নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশিত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply