নবম পে–স্কেল নিয়ে স্থগিত থাকা পূর্ণ কমিশনের সভার নতুন তারিখ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ের কমিশনের সভাকক্ষে এ পূর্ণাঙ্গ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টায় সভা শুরু হবে এবং এতে গ্রেড সংখ্যা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পে–কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নবম পে–স্কেল সংক্রান্ত আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই সভাকে ধরা হচ্ছে। কারণ, সভায় সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, বিশেষ করে গ্রেড সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য ২০টি গ্রেডকে ঘিরে তিন ধরনের ভাবনা–চিন্তা চলছে। কমিশনের একাংশ মনে করেন, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে যৌক্তিক হারে বেতন–ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হবে। তবে কমিশনের আরেকটি অংশ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে বলছে, গ্রেড সংখ্যা কমানো গেলে বেতন কাঠামোয় বৈষম্যের সম্ভাবনা কমবে। তাদের মত অনুযায়ী, ২০টি গ্রেডকে কমিয়ে ১৬টিতে আনা যেতে পারে।
অন্যদিকে, কমিশনের আরও একটি অংশ গ্রেড সংখ্যা ১৪টিতে নামিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো—গ্রেড বেশি হলে একই পদমর্যাদা বা সমমানের কাজের মধ্যে বেতন ব্যবধানে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। তাই তুলনামূলক কম গ্রেডের কাঠামো ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলেই তারা মনে করেন।
এদিকে নবম পে–স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর ও পেশাজীবী সংগঠন থেকে পাওয়া মতামতগুলো ইতোমধ্যে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছে পে–কমিশন। জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশন সদস্যদের মধ্যে মতৈক্যের ঘাটতি থাকায় এখনো চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমিশন জানিয়েছে, নবম পে–স্কেলকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী করতে তারা বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। এজন্য প্রতিটি সংস্থা ও সংগঠন থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব লিখিতভাবে সংরক্ষণ ও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশন সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলেই চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারে জমা দেওয়া হবে।
Leave a Reply