এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন নিয়ে জটিলতা এদেশে নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত কোন না কোন জটিলতা লেগেই থাকে। সেই জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার ইএফটিতে বেতন প্রদানের কার্যক্রম চালু করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিমাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বিল প্রতিষ্ঠানের ইএফটি ড্যাশবোর্ডে ডিজিটাল ভাবে সাবমিট করছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের বেতনের বিষয়ে মাউশির কর্মকর্তাদের নিকট জানতে চাইলে মাউশির ইআইএমএস সেলের প্রোগামার মোঃ জহির উদ্দিন সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে তা হলো এখন অবধি বা এ মাসেও প্রায় ১ হাজার এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল সাবমিট করেনি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন প্রদানের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষে আশা করা যায় আগামী সপ্তাহের মধ্যেই অথ্যাৎ আগামী ৮ তারিখের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন পেতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একটি সুত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পেতে এবার কিছুটা দেরি হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু অনুমোদন দিয়ে দেয় তাহলে আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে তারা বেতন-ভাতা পাবেন। তবে ৮ জানুয়ারির মধ্যে বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পৌনে চার লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর ডিসেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বেতনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কঠিন। শিক্ষকরা ডিসেম্বর মাসের বেতন আগামী ১১ জানুয়ারির পর পাবেন বলেই মনে হচ্ছে।’
জানা গেছে, প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব পাঠান প্রতিষ্ঠান প্রধান। অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানো হয়।
এর আগে ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে এমপিওভুক্তদের বেতন পাঠানোর জন্য চলতি মাসের বিল ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতেই ইএফটির মাধ্যমে এমপিওর অর্থ প্রেরণ করা হবে। ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রদানের কারণে কারও বেতন পাঠানো না হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপরই বর্তাবে।
এছাড়া বলা হয়, প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিল অনলাইনে সাবমিট না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো সম্ভব হবে না। তাই বিল জমা দেওয়ার পর তার কপি ডাউনলোড করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরসহ সংরক্ষণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইএফটি ব্যবস্থায় প্রদান করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত এসব অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
EFT হয়ে লাভ হয় নি। এনালগ পদ্ধতিই ভাল ছিল। কারন সময়মত বেতন দেয় না। অনেক needy মানুষ অাছে শুধু বেতনের উপর নির্ভর করে , এটা সরকারকে বুঝতে হবে।