২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এ ছুটির কাঠামোয় আগের বছরের তুলনায় ছুটির সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটি বা ঘন ঘন ছুটির কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়া, সিলেবাস পিছিয়ে যাওয়া এবং পরীক্ষার সূচিতে চাপ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার মোট ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ দিন, যা শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক পরিকল্পনা, পরীক্ষা সূচি ও ধারাবাহিক পাঠদানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত করা হয়েছে। পূর্বের বছরের তুলনায় ছুটি কমেছে ১২দিন। এর আগে গত বছর ২০২৫ সালের বাৎসরিক ছুটি ছিল ৭৬ দিন।
ছুটির কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে রমজান মাসের সময়সূচিতে। আগে রমজানে টানা ছুটি বা সীমিত পাঠদান থাকলেও ২০২৬ সালে রমজানের বেশিরভাগ দিনে নিয়মিত ক্লাস চলবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ১৮ থেকে ২০ রমজান পর্যন্ত বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান অব্যাহত থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ বিরতিতে পড়াশোনা থেকে দূরে থাকবে না এবং বার্ষিক সিলেবাসও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোজার সময় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ক্লাসের সময়সূচি প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করার নির্দেশনাও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হতে পারে। তবে উল্লেখ থাকে যে, রমজান উপলক্ষে মাদ্রাসায় ছুটি থঅকবে কিন্তু ৩০ দিন কিন্তু কোন বিবেচনায় মাধ্যমিকের সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে সেই ছূটি ১৮ দিন।
এবার গ্রীষ্মকালীন ছুটি আলাদা করে না দিয়ে সেটিকে ঈদুল আযহার ছুটির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশের শিক্ষাবর্ষে গ্রীষ্মের একটি নির্দিষ্ট সময় ছুটি হিসেবে ধরা হলেও, নতুন কাঠামোয় এই ছুটি ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বিত করায় দীর্ঘ টানা ছুটি এড়ানো সম্ভব হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এতে একদিকে যেমন পরিবারের সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুযোগ থাকবে, তেমনি দীর্ঘ বিরতির কারণে পড়ালেখার ধারাবাহিকতাও ভাঙবে না।
আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক–১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ ছুটির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসব, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বিশেষ ছুটির দিনগুলো সমন্বয় করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত ছুটি না দেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Reply