বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু করতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির লক্ষ্যে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই সফটওয়্যার উন্নয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে বাস্তব রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) মাউশির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী বুধবারের (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যেই টেলিটকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমেই মূলত সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু হবে। তবে সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের আগে অবশ্যই সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করতে হবে। নীতিমালা চূড়ান্ত না হলে সফটওয়্যার চালু করা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম মোসলেম উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, বদলির সফটওয়্যার তৈরির চুক্তি চলতি সপ্তাহেই হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. ইউনুছ ফারুকী দিতে পারবেন। তবে এদিন পারিবারিক কারণে মো. ইউনুছ ফারুকী অফিসে উপস্থিত না থাকায় তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিন কোনো নিয়মিত বদলি ব্যবস্থা ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে নতুন করে আবেদন করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়, যা শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে শিক্ষক সমাজের ধারাবাহিক আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় এবং একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু শিক্ষকদের এক পক্ষের রিট মামলা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালা সংশোধনের জটিলতা এবং প্রশাসনিক নানা বাধার কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া আটকে থাকায় শিক্ষকরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।
Leave a Reply