নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের একের পর এক হুমকি, হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটামের পরও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক ঘোষণা আসেনি। আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কর্মচারী সংগঠনগুলোর দেওয়া সর্বশেষ আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হলেও এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মচারী নেতারা।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতা ওই চিঠি হস্তান্তর করেন। তবে এখন পর্যন্ত সাক্ষাতের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত হয়নি। এদিকে আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ায় দেশের চাকরিজীবীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। পে স্কেল নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সরকারি কর্মচারীরা।
এর আগে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও সম্প্রতি সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের দমন প্রক্রিয়া এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের পর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত কর্মচারী নেতাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত বড় ধরনের কর্মসূচির দিকে যাচ্ছেন না তারা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক সরকারি অবস্থানের কারণে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, “আমরা অবশ্যই আমাদের দাবি পেশ করবো। তবে সব দাবি রাস্তায় আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় করতে হবে—এমনটি নয়। পে স্কেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চাইছি।” তিনি আরও বলেন, সচিবালয়ের ভেতরে সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে বাইরের অনেক কর্মচারী সচিবালয়ের কর্মচারীদের ওপর ক্ষুব্ধ। এসব বিষয় বিবেচনা করেই কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমরা অর্থ উপদেষ্টা সালেহ আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছি এবং তার জন্য অপেক্ষা করছি। আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। সংগঠনটির একজন নেতা বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমরা ইচ্ছেমতো কর্মসূচি দিতে পারি না। চাকরির বিধিমালা ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই আমাদের আন্দোলন পরিচালিত হবে। বিধিমালা বহির্ভূত কোনো কর্মসূচির প্রশ্নই ওঠে না।”
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার একটি পে কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সরকারি কর্মচারীদের দাবি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে—যা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
Leave a Reply