বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫’-এ শিক্ষকদের দায়িত্ব, যোগ্যতা, শ্রেণি বণ্টন এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নিয়ে বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—শিক্ষকদের নিজেদের মূল বিষয়ের পাশাপাশি আরও দুইটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, কোনো স্কুল বা কলেজে ক্লাস বণ্টনে প্রয়োজন দেখা দিলে শিক্ষকরা আর শুধু নিজ নিজ বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; প্রয়োজনে অন্যান্য বিষয়েও পাঠদান করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী ক্লাস বা পিরিয়ড নিরূপণ করা হবে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক টাস্ক বজায় রাখতে নতুন কাঠামো তৈরি করবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষকের ন্যূনতম আরও দুইটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষকরা প্রয়োজনে নিম্ন শ্রেণির ক্লাসও নেবেন, যাতে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ব্যাহত না হয়। তাছাড়া প্রতিটি শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত যেকোনো একটি সহ-পাঠ্যক্রমিক বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শুধু শিক্ষক নন, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষকেও আর প্রশাসনিক দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ থাকছে না—তাদের সপ্তাহে অন্তত ৫টি ক্লাস নিতে হবে। একইভাবে উপাধ্যক্ষ বা সহকারী প্রধান শিক্ষককে অন্তত ৮টি ক্লাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পদকাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ‘জ্যেষ্ঠ প্রভাষক’ পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদের নিয়োগ যোগ্যতায়ও পরিবর্তন এসেছে। যেমন—মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুই-তিন বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
নীতিমালায় অনুপস্থিতি সংক্রান্ত কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। কোনো শিক্ষক বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে, তিনি এমপিওভুক্তির আওতায় বিবেচিত হবেন না। ৬০ দিন অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই পদটি শূন্য ঘোষণা করে নিয়ম অনুযায়ী নতুন নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন জনবল কাঠামোতে কলেজে নতুন শাখা খোলার নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু করতে হলে প্রতিটি বিভাগে কমপক্ষে ৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তবে মফস্বল এলাকাকে বিবেচনায় নিয়ে সেখানে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ন্যূনতম ৩০ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, শিক্ষক দক্ষতা এবং শিক্ষাদানের মান আরও সুসংগঠিত করতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a Reply