বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি-সংক্রান্ত নীতিমালা শেষ পর্যন্ত কী হবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পাশাপাশি নানা জটিলতাও তৈরি হয়েছে। অবশেষে বদলি প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার লক্ষ্যে তিন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই তিনটির যেকোনো একটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই নতুন সংশোধীত বদলি নীতিমালা জারি করা হবে।
রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক, এনটিআরসিএ সনদধারী হয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক এবং এমপিওভুক্ত সব শিক্ষক—এই তিনটি শ্রেণির শিক্ষককে লক্ষ্য করে তিন ধরনের বদলি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তিনটির মধ্যে কোনটি বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন শিক্ষা সচিব।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খসড়া নীতিমালায় তিন ধরনের বদলির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। সচিব যে প্রস্তাবকে অনুমোদন দেবেন, সেটির ভিত্তিতেই মাউশি ভবিষ্যতে বদলির সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তাই বর্তমানে তিনটি প্রস্তাবই সমানভাবে বিবেচনায় আছে।
কোন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, একাধিক সভায় ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের রিট এবং অন্যান্য আইনি জটিলতা বিবেচনায় অধিকাংশ কর্মকর্তা মত দিয়েছেন যে এমপিওভুক্ত সব শিক্ষককে বদলি সুবিধার আওতায় আনা উচিত। ফলে সর্বজনীন বদলি বা ‘ইউনিফায়েড ট্রান্সফার সিস্টেম’ অনুমোদনের সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ইতিহাস বলছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম তিনটি গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা আবেদন করতে পারলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এই সুযোগ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বদলি সুবিধা চালুর দাবিতে আন্দোলনও হয়।
শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় এবং একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করে। তবে সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, আদালতের রিট, নীতিমালা সংশোধনসহ নানা কারণে এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, সংশোধীত বদলি নীতিমালা জারি হলে আগামী বছরের মার্চ মাস থেকেই বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply