বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত বেশ কিছু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এসব শিক্ষকের বেতন বন্ধ থাকার মূল কারণ তাদের তথ্যভান্ডারে (ডাটাবেজে) বিভিন্ন ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ভুল থাকায় নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে বেতন পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে ভুল সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেল।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মাউশির ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রামার (এমপিও) জহির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য ভুলের কারণে ইএফটির মাধ্যমে বেতন ফেরত এসেছে, তাদের সেই ভুল তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেই ভুলগুলো সংশোধন করে আবারও যথাযথভাবে ইএমআইএস সেলে পাঠানো। তথ্য সংশোধন ও আপডেট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা বেতন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
অন্যদিকে, দেশজুড়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর নভেম্বর মাসের বেতন প্রসেসিং প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইএমআইএস সেল জানিয়েছে, নভেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলতি সপ্তাহেই অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাবেন। প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে বিল দাখিল করেন। এরপর তা যাচাই-বাছাই, তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে বেতন ব্যাংকে পাঠানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করতে সরকার ইতোমধ্যেই পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে। অনলাইন বিল দাখিল থেকে শুরু করে অনুমোদন এবং ব্যাংকে বেতন পাঠানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ভুল কমছে এবং স্বচ্ছতা বাড়ছে। তবে তথ্যভুল থাকলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বেতন স্থগিত করে দেয়—ফলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তথ্য হালনাগাদ করাই এখন জরুরি।
Leave a Reply