বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নভেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবটি আইবাস (iBAS++) সিস্টেমেও আপলোড করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আইবাসের কর্মকর্তারা বেতন–সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। ফলে চলতি সপ্তাহে বেতন পাওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ইএমআইএস (EMIS) সেলের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হলে তারা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীরা চলতি সপ্তাহেই নভেম্বরের বেতন পাবেন বলে তাদের প্রত্যাশা। তবে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা এই আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। তাদের মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে, সেখান থেকে আবার আইবাসে যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতেই কয়েকদিন লেগে যায়। এরপর রয়েছে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসের অনুমতি ও শেষ ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ছাড় প্রক্রিয়া। ফলে এতসব ধাপ সম্পন্ন করে সপ্তাহের মধ্যেই বেতন পাওয়া সম্ভব হবে কিনা—তা নিয়ে সন্দিহান তারা।
অন্যদিকে মাউশি জানিয়েছে, বেতন প্রসেসিংয়ে দায়িত্বে থাকা আইবাসের কর্মকর্তা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া আগামীকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হবে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে সপ্তাহের মধ্যেই বেতন–ভাতা ছাড় করা সম্ভব হবে বলেও জানায় মাউশি।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা যখনই বেতনের বিল অনলাইনে জমা দেন, মাউশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা যাচাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এখন সব নির্ভর করছে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর। অনুমোদন পেলে বিলম্ব ছাড়াই শিক্ষক-কর্মচারীরা নভেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন।
জানা যায়, প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অনলাইন বেতনবিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই করে মাউশি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বেতন-ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বেতন–ভাতা প্রদানে স্বচ্ছতা ও গতি আনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করেছে, যা আগের তুলনায় কার্যক্রমকে অনেক দ্রুত ও নির্ভুল করেছে।
Leave a Reply