বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নভেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে গত ০১ তারিখ সম্ভবত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখনও সেই বেতনের প্রস্তাবে মন্ত্রণালয় অনুমোদন সহ অন্যান্য যে আনুযাঙ্গিক যে কার্যক্রম থাকে তা সম্পূর্ণ হয় নি। বর্তমানে কাজের যে অগ্রগতি তাতে এতটুকু স্পষ্ট আগামী রবিবার বা সোমবারের পূর্বে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিলবে বলে মনে হয় না। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরে রয়েছে আরও আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম। এর পর আবার আরও একটি দুঃসংবাদ রয়েছে সেটা হলো আইবাসের টেকনিক্যাল টিম বিদেশে গিয়েছে তারা আজ আসার কথা।
সোমবার (০১ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল সূত্র জানায়, নভেম্বর-২০২৫ মাসের বেতন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস সিস্টেমেও্ আপলোড করা হয়েছে। তবে আইবাসের টেকনিক্যাল টিম বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় প্রক্রিয়ায় সামান্য দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইএমআইএস সেলের এক কর্মকর্তা নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘নভেম্বর মাসের বেতনের প্রয়োজনীয় হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইবাসেও পাঠানো হয়েছে। আইবাসের টেকনিক্যাল জনবল বিদেশ সফরে থাকায় তারা ৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরে কাজে যুক্ত হবেন। ফলে বেতন-ভাতা ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। সব ঠিকঠাক থাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৮ বা ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নভেম্বর মাসের বেতন পেয়ে যেতে পারেন।’
সূত্র আরও জানায়, প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন-ভাতা বিল জমা দেন। অনলাইনে বিল দাখিলের পর তা বিভিন্ন ধাপে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং আর্থিক অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে আগের তুলনায় বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আরও দ্রুত, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়েছে। তবে তাতে কি কিন্তু এমপিওভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির বিষয়ে তেমন কোন অগ্রগতি হয়েছে কিনা এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যান।
গত অক্টোবর মাসে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটিতে বেতন পেয়েছেন। এর মধ্যে-
অথ্যাৎ গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী ইএফটিতে বেতন পেয়েছেন। এর আগে গত ২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জটিলতা নিরসনে ২৪ইং সালের ডিসেম্বর মাস হতে ইএফটির মাধ্যমে বেতন বিল প্রদান করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। শুরু হতে নানান জটিলতা দুর করে আজ মোটামুটি একটি পর্যায়ে এসে পৌছেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদানের প্রক্রিয়াটি যদিও এখন শতভাগ শিক্ষক ইএফটির আওতায় আসতে পারেনি নানাবিধ জটিলতার কারণে।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কেন কোন কথা বলা যায় না কেন? তাদের সকল বিষয়ে সকল সময় একটা যদি কিন্তু এই ধরনের কথা বল হয়ে থাকে যা কিন্তু অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি করে। এটার মাধ্যমে তাদের প্রতি একটি অবহেলার প্রকাশ পায় প্রতিনিয়ত।
আজকে নভেম্বর মাসের বিল পাওয়া যাবে।
না আজ বেতন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। আজ কেবল জিও জারি হয়েছে। বেতন পেতে পেতে বৃহস্পতিপার থেকে সোমবার হতে পারে।