বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নিতে যৌথ সভায় বসতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটায় এনটিআরসিএ কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মূলত আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্ব প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতাগুলো দূর করতেই এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনটিআরসিএর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (০১ ডিসেম্বর) টেলিটকের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সকালে বিদেশ থেকে দেশে ফেরায় বৈঠকটি এক দিন পিছিয়ে দেয়া হয়। ফলে সব পক্ষের সুবিধার্থে নতুন সময় নির্ধারণ করে তা আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে। সভায় শূন্যপদের হালনাগাদ তালিকা যাচাই, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদার কারণে ভুলভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের প্রতিস্থাপন এবং বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগামীকালের বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঠিক শূন্যপদের তথ্য যাচাই করা। তবে যেহেতু প্রতিস্থাপন এবং বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে, তাই সভায় এই বিষয়গুলোও আলোচ্যসূচিতে আসতে পারে।
অন্যদিকে, শিক্ষক বদলি কার্যক্রম এখনো চালু না হওয়ায় ইনডেক্সধারী অনেক শিক্ষক আসন্ন গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সুযোগ দাবি করেছেন। কিন্তু এনটিআরসিএ স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে—এই দাবি বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে যেসব প্রার্থীর নিবন্ধন সনদের মেয়াদ রয়েছে এবং বয়সসীমার মধ্যে চাকরির যোগ্যতা বজায় আছে, শুধু তারাই গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন।
এবারের গণবিজ্ঞপ্তিটি মূলত ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হলেও ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১৭তম নিবন্ধনধারীরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের জন্য এতে কোনো আবেদনের সুযোগ রাখা হচ্ছে না—এ বিষয়ে এনটিআরসিএর অবস্থান স্পষ্ট।
এই প্রসঙ্গে এনটিআরসিএর আরও এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এখনই সম্ভব নয়। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে প্রথমে নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। আর নীতিমালা সংশোধনে যে সময় লাগবে, সেই সময়ের মধ্যেই শিক্ষক বদলি কার্যক্রম কার্যকর হয়ে যাবে। তখন ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা নিজের এলাকার কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবেন। ফলে বর্তমানে তাদের জন্য আলাদা সুযোগ রাখার প্রয়োজন নেই।
Leave a Reply