মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক, জুনিয়র বৃত্তি এবং নির্বাচনী পরীক্ষা যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করেছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষাসমূহ গ্রহণে কোনও ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক স্তরে বার্ষিক পরীক্ষা, নির্বাচনী পরীক্ষা ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়সূচি পূর্বনির্ধারিত। এদিকে নবম গ্রেডে বেতনসহ মোট ৪টি দাবিতে সোমবার থেকে মাধ্যমিকের সরকারি শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে। যা আজ সোমবার হতে কার্যকর হয়েছে। সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষারত সকল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের গত রবিবার রাতে মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে আজ সোমবার পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছে। মাউশির পক্ষ হতে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষাগুলো যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকরা সেদিকে কোন কর্ণপাত না করে তাদের কর্মবিরতি শূরু করেছে।
মাধ্যমিকের সরকারী শিক্ষকদের দাবীসমুহ-
১। এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেড ধরে বিসিএস মাধ্যমিক এবং পদসোপনসহ স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
২। সকল শুন্যপদে সহকারী শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিদর্শক, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও কর্মচারীসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন।
৩। শিক্ষকবৃন্দের ন্যায়সঙ্গত ও মহামান্য আদালত কর্তৃক নির্দেশিত টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড এর মঞ্জুরী আদেশ প্রদান।
৪। অগ্রিম বেতন মঞ্জুরী রহিতকরণ আদেশ প্রত্যাহার।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১৭ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন মোতাবেক ২০ নভেরম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা চলবে আগামী ৭ ডিসেম্বর (রবিবার) পর্যন্ত। একইভাবে ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) থেকে ১১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী পরীক্ষা। অন্যদিকে মাউশির ২৯ অক্টোবরের চিঠি অনুসারে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর (রবিবার) থেকে ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত, যা দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে একযোগে আয়োজনের কথা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে এসব পরীক্ষার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আঞ্চলিক উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও মাউশি উল্লেখ করেছে।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হলো এটা কি দাবী আদায়ের উপযুক্ত সময় কিনা তা ভেবে দেখার জন্য সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাবো। কেন কথাটি বললাম- প্রতিটি পেশাজীবির দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলনে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই দাবী আদায় কি এভাবে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করার মাধ্যমে। আন্দোলনে আপনারা যাবেন ভালো কথা সেটা হতে পারত পরীক্ষার শূরুর পূর্বেও তো করতে পারতেন আবার পরীক্ষা শুরুর পরেও তো হতে পারত। কিন্তু পরীক্ষা চলমান থাকা অবস্থায় এই আন্দোলন কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা প্রশ্নের জন্ম দেয় আপনার নিবেদন নিয়ে।
Leave a Reply