নভেম্বর মাসের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতন নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। মাউশির কর্মকর্তাদের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই নভেম্বর মাসের এমপিও বিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত শিক্ষকরা গত কয়েক দিন ধরে নভেম্বর বেতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন এবং দৈনিক শিক্ষাডটকমের পাঠকদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সেই কারণেই মাউশির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির অগ্রগতি জানা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বেতন বিল মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনামতো কাজও এগিয়ে চলছে। মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয় সবকিছু ঠিকঠাক চললে আশা করা যায় আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের নভেম্বর মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর এমপিওর বিল সাবমিটের সময় শেষ হচ্ছে।
প্রতি মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব পাঠান প্রতিষ্ঠান প্রধান। অনলাইন বিল দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বেতনের অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানো হয়। এই সকল কাজ শেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন পাওয়ার সম্ভাব্য যে সময় মাউশি থেকে যে সময় জানানো হয়েছে তা হলো আগামী ৬ তারিখে পরে। অর্থাৎ……………….
এর আগে গত মঙ্গলবার মাউশি দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। সেখানে বলা হয়, নভেম্বর মাসের বেতন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানোর জন্য ২৭ নভেম্বরের মধ্যে অবশ্যই অনলাইনে বেতন বিল সাবমিট করতে হবে। কোনো কারণে ভুল তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডেটা ভুলভাবে প্রদান করার ফলে কোনো শিক্ষক–কর্মচারীর ইএফটিতে টাকা না গেলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, ইএফটিতে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাবমিট করা তথ্যই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে—এ মর্মেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল অনলাইনে সাবমিট না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক–কর্মচারীর এমপিওর টাকা সেই মাসে পাঠানো সম্ভব হবে না। ফলে সময়মতো বিল সাবমিট করা এখন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিল সাবমিট করার পর প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবশ্যই সেই বিলের একটি কপি ডাউনলোড করে নিজস্ব ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে এবং এতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির স্বাক্ষর থাকবে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বেতন বিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে মাউশি এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের বেতন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply