বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আনুষ্ঠানিক বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগে আবারও গতি এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। বহু বছর ধরে শিক্ষকসমাজ এই বদলি ব্যবস্থার দাবি জানালেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। সম্প্রতি এ প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে মন্ত্রণালয় নতুন করে অগ্রসর হয়েছে। একই সময়ে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও যারা ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পাননি—তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এজন্য সারাদেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বিদ্যমান শূন্য পদ চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
কিন্তু এই শূন্য পদের ব্যবহার নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর অবস্থান পুরোপুরি ভিন্ন। মন্ত্রণালয়ের মতে, মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত শূন্য পদের তথ্য সর্বপ্রথম ব্যবহৃত হওয়া উচিত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে। তাদের যুক্তি—বদলি ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট কমে যাবে, একই সঙ্গে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে থাকা শিক্ষকরা নিজেদের নিকটস্থ এলাকায় বদলি হয়ে মানসিক ও আর্থিক স্বস্তি পাবেন। ফলে নতুন নিয়োগের চাপও কমে আসবে।
অন্যদিকে, এনটিআরসিএর অবস্থান ঠিক বিপরীত। সংস্থাটি বলছে—৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে যে বিপুল সংখ্যক ১৮তম নিবন্ধনধারী প্রার্থী সুপারিশবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নিয়োগ সুপারিশ দিতে এই শূন্য পদগুলো অপরিহার্য। কারণ তাদের বয়স বা অন্যান্য যোগ্যতা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই এবং পরবর্তীতে ১৯তম নিবন্ধন থেকে নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে তাদের সুপারিশ দেওয়া আর সম্ভব হবে না। ফলে এই মুহূর্তে শূন্য পদগুলো ব্যবহার না করলে বহু প্রার্থী স্থায়ীভাবে সুপারিশের সুযোগ হারাবেন বলে মনে করছে এনটিআরসিএ। তাই তারা ই-রেজিস্ট্রেশন ও ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে যাতে দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়।
এই দুই সংস্থার ভিন্নমুখী অবস্থান শূন্য পদের প্রকৃত ব্যবহার নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বদলি কার্যক্রম ও নিয়োগ সুপারিশ—উভয় প্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ এবং তার আগে শূন্য পদগুলোর প্রকৃত সংখ্যা নির্ভুলভাবে জানা জরুরি। সঠিক হিসাব ছাড়া কোনো একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে তাতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেও কেউই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম গোপন রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এমপিও নীতিমালায় বলা আছে গত সেপ্টেম্বরেই বদলির জন্য শূন্য পদের চাহিদা গ্রহণ করা উচিত ছিল। নীতিমালা লঙ্ঘন করে বদলি কার্যক্রম বিলম্বিত হলে সংশ্লিষ্টরা আদালতে যেতে পারেন। তাই মাঠপর্যায় থেকে যেসব শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে সেগুলো বদলির জন্য সংরক্ষণ করাই যুক্তিযুক্ত।
অন্যদিকে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিতদের এখনই সুপারিশ না করা গেলে পরে আর সম্ভব হবে না; কারণ নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে ১৯তম নিবন্ধন থেকে। তাই তারা যত বেশি সম্ভব প্রার্থীকে সুপারিশের আওতায় আনতে চায়। কিন্তু মন্ত্রণালয় যদি শূন্য পদগুলো বদলির জন্য সংরক্ষণ করে, তাহলে সুপারিশের সুযোগ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। এই মতপার্থক্য নিরসনে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এনটিআরসিএ।
Leave a Reply