সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা (২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য)
প্রকাশ করেছে: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ জারি: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর
১. ভর্তির মূল কাঠামো
- আগামী শিক্ষাবর্ষেও ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি বহাল।
- আবেদন, ফি পরিশোধ, লটারি ও ফলাফল—সবকিছুই অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হবে।
- প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
২. কোটা ব্যবস্থা
- মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জন্য ৫%
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমএইচইডি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য ০.৫%
- সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থী—৪০% (ঢাকা)
- স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—১০% (৬ষ্ঠ শ্রেণি)
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী—২%
- যমজ ভাই/বোন—২%
- সহোদর/সহোদরা—৩%
- শিক্ষক/কর্মচারীর সন্তান—অতিরিক্ত আসন
উল্লেখ্য: যমজ ও সহোদর আসন পরস্পর বিনিময়যোগ্য, কোনো আসন শূন্য রাখা যাবে না।
৩. বয়সসীমা
- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে:
- প্রথম শ্রেণি: বয়স ৫–৭ বছর (পরবর্তী শ্রেণিতে ধারাবাহিক প্রযোজ্য)
- উদাহরণ (২০২৬ শিক্ষাবর্ষ):
- সর্বনিম্ন জন্মতারিখ: ০১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত
- সর্বোচ্চ জন্মতারিখ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ৫ বছর অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারে।
৪. শিক্ষাবর্ষ
৫. আবেদন ও লটারি
- সব আবেদন নির্ধারিত সফটওয়্যারে অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
- আবেদন ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।
- লটারির সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে আরেকটি স্বীকৃত কারিগরি প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করাতে হবে।
- লটারির তালিকার পাশাপাশি অপেক্ষমান তালিকা প্রস্তুত হবে।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিতদের ভর্তি না করলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে ভর্তি করা হবে।
৬. পছন্দক্রম (School Choice)
- সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয় বেছে নেওয়া যাবে।
- ডাবল শিফট হলে ২ শিফট = ২টি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে।
- আবেদনকারীকে একটি পছন্দ চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করতে হবে (সফটওয়্যারে থাকবে)।
৭. শূন্য আসন নিরূপণ
- প্রতিষ্ঠান প্রধান সফটওয়্যারে শূন্য আসনের তথ্য আপলোড করবেন।
- ভর্তি শেষে ৭ দিনের মধ্যে আসন পূরণের বিস্তারিত তথ্য ঢাকার কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিকে পাঠাতে হবে।
৮. ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
- প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোন অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
- নির্বাচিত তালিকার বাইরে কাউকে ভর্তি করা যাবে না।
- জেলার বাইরে ঢাকার জন্য কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে সর্বজনীন প্রচারণা থাকবে।
৯. বদলি ও বিশেষ ভর্তির সুযোগ
সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী বদলি হলে
- বদলির আদেশের ১০ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
- নতুন কর্মস্থলের নিকটতম সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ।
- প্রতি শ্রেণিতে ৫% অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত।
- আগে সরকারি স্কুলে পড়লে অগ্রাধিকার।
শিক্ষক/কর্মচারীর সন্তানের ভর্তি
- তাদের সন্তানের জন্য সমসংখ্যক অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।
অভিভাবক ছাড়া শিক্ষার্থী
- পিতা-মাতা না থাকলে নতুন এলাকায় সমশ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে।
১০. শিক্ষা বোর্ড বিষয়ক নিয়ম
- একজন শিক্ষার্থী নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে আগের প্রতিষ্ঠানের প্রধান বোর্ডকে জানাবেন।
- বোর্ড রেজিস্ট্রেশন সংশোধন করবে।
১১. লটারি ও ফলাফল প্রকাশ
- প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান লটারির তথ্য কমিটিতে দেবে।
- লটারি এমএইচইডি বিভাগের তত্ত্বাবধানে হবে।
- প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে ফল প্রকাশ করবে।
১২. আর্থিক বিষয়
- ভর্তি ফি থেকে কারিগরি খরচ বাদ দিয়ে বাকি অর্থ বণ্টনের জন্য উপকমিটি কাজ করবে।
১৩. সমস্যা সমাধান
- প্রয়োগকালীন অস্পষ্টতা দেখা দিলে মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।
Post Views: 369
Leave a Reply