সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের একাংশ এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে গ্রেড বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী তাদের পদ ১০ম গ্রেডে নির্ধারিত হলেও বাস্তবে অনেকের আবেদন বাতিল করে ১১তম গ্রেডে পুনরায় আবেদন করতে বলা হচ্ছে। এতে শিক্ষকেরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ষষ্ঠ নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কৃষি বিষয়ক সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।
শিক্ষকরা দৈনিক আমাদের বার্তা-কে জানান, পূর্বে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে ১০ম গ্রেডে এমপিওভুক্তি দেওয়া হতো। কিন্তু এখন নতুন নীতিমালার ব্যাখ্যা দেখিয়ে তাদের ১১তম গ্রেডে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এক শিক্ষক বলেন, “আমরা যখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছি তখন ১০ম গ্রেডই ছিল। আমরা সেপ্টেম্বরে যোগদান করেছি, কিন্তু নতুন নীতিমালা হয়েছে অক্টোবরের শেষে। তাহলে সেই নীতিমালার আওতায় আমরা কেন বাদ পড়ব?”
তাদের অভিযোগ, অনেক আঞ্চলিক ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) তাদের ফাইল রিজেক্ট করে ১১তম গ্রেডে নতুন করে আবেদন করতে বলেছেন। এর ফলে এমপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে কিছু ফাইল ১০ম গ্রেডে অনুমোদিতও হয়েছে। ফলে একই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের বেশ কিছু ফাইল বিশেষভাবে স্থগিত অবস্থায় আছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের অস্পষ্ট নির্দেশনা ও ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
লিখিত আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, ২৮ অক্টোবর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য যে নতুন পরিপত্র জারি হয়, সেটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় এবং আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া থমকে আছে।
শিক্ষকরা শিক্ষা সচিবের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “নীতিমালায় নির্ধারিত ১০ম গ্রেডের এমপিও না পেলে আমাদের ন্যায্য মর্যাদা ও প্রাপ্য বেতন-ভাতা পাওয়া সম্ভব নয়।” তারা দ্রুত এ জটিলতা নিরসন ও নীতিমালা অনুযায়ী গ্রেড পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ আর না বাড়ে।
Leave a Reply