নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রায় সাড়ে আট কোটি নতুন বই। ইতিমধ্যেই এসব বইয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছাপা সম্পন্ন হয়েছে, এবং বাকি অংশের কাজ চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ কোটি ১০ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৮ কপি বইয়ের বাইন্ডিং সম্পন্ন, যা মোট বইয়ের প্রায় ৮২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৫ কপি বই প্রস্তুত, যা ৮১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ কোটি ৯৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৪ কপি বই পিডিআই (প্রিন্ট, ডেলিভারি, ইনভেন্টরি) সম্পন্ন, অর্থাৎ পুরো কাজের ৬৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ইতিমধ্যে ৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪১০ কপি বই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এসব বই দেশের ৫০২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি বইগুলো ছাপা শেষ হলে জানুয়ারির আগেই দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই পৌঁছে যাবে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির উৎপাদন নিয়ন্ত্রক আবু নাসের টুকু বলেন, “চলতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ নতুন বই পাবে। ইতোমধ্যে সারা দেশের প্রায় ৫২০টি কেন্দ্রে ৫ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি বই পাঠানো হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সব কাজ শেষ করতে সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করছি।”
তিনি আরও জানান, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই সব বই বিতরণের উপযোগী হয়ে যাবে, এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যালয়ে পৌঁছে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পাবে, যা সরকারের ‘বই উৎসব’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
Leave a Reply