সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আবারও রাস্তায় নামতে যাচ্ছেন তিন দফা দাবিতে। দাবি আদায়ে তারা এবার লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন আগামীকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে এই অবস্থান কর্মসূচি।
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম–শাহীন) সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন–লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, দশম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান, এবং অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ আনোয়ার উল্যা।
এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরাও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে সহকারী শিক্ষক মো. মহিব উল্লাহ কর্মসূচি সফল করতে সকলকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেশের পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা—এরা সবাই দশম গ্রেডে বেতন–ভাতা পান। অথচ সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১১তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত। তাই দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে তারা লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর থেকে সহকারী শিক্ষকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, কিন্তু কিছু অংশের সিদ্ধান্তে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এবার তারা পুনরায় মাঠে নামছেন লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে।
শিক্ষক নেতারা জানান, কয়েক দফা আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয় এবং সে অনুযায়ী ৭ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি বাস্তবায়ন না করে নবগঠিত পে কমিশনের কাছে পাঠায়। পরবর্তীতে শিক্ষকরা পে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন, তবে পে কমিশন জানায় যে গ্রেড পরিবর্তন তাদের এখতিয়ার নয়—এটি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় শিক্ষকরা আবারও দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো—
১️⃣ সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি দশম গ্রেড প্রদান।
২️⃣ ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।
৩️⃣ শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
শিক্ষকদের দাবি, তাদের এই আন্দোলন কেবল বেতন-গ্রেডের নয়, এটি সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই।
Leave a Reply