মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমে উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব উপস্থিত থেকে কর্মসূচির দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক শাখা-২ এর উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে কর্মশালার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন, তা নিরূপণের লক্ষ্যে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। তারা দেশের বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সংস্কার নিয়ে মতামত প্রদান করবেন।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক শিক্ষায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো সনাক্ত করে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরি করা। বিশেষ করে শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়ন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকরতা, শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, স্কুল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, এবং শিক্ষার্থীদের শিখনফল (learning outcomes) উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করবেন ড. মনজুর আহমদ, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তারা। অংশগ্রহণ করবেন সরকারি ও এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শ্রেণি শিক্ষক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সদস্য, আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, এবং এইচএসটিটিআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তদুপরি, কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানবৃন্দ—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বোর্ডের প্রতিনিধিসহ পরীক্ষানিয়ন্ত্রক, পরিদর্শক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের একজন মেম্বারও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) একজন পরিচালক ও একজন উপপরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর একজন পরিচালক ও সিনিয়র কর্মকর্তা, এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালক কর্মশালায় অংশ নেবেন।
নায়েমের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কর্মশালায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রযুক্তি কেন্দ্র (টিটিসি)-এর প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মশালায় আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে—বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে আধুনিকীকরণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠদানের মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীর পাঠপ্রবণতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বৃদ্ধির উপায়, এবং শিক্ষা খাতে তথ্য-উপাত্তনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
কর্মশালায় প্রাপ্ত সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করবে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও দক্ষতা উভয় ক্ষেত্রেই একটি বড় পরিবর্তন আসবে।
এ কর্মশালাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ‘নীতিনির্ধারণমূলক পদক্ষেপের অংশ’ হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এটি মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকীকরণ, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
Leave a Reply