বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত পৌনে চার লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীর অক্টোবর মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল থেকে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার (২ নভেম্বর) অথবা সর্বোচ্চ আগামীকাল সোমবারের মধ্যে অক্টোবর মাসের বেতনের সরকারি আদেশ (জিও) জারি হতে পারে। এরপর বেতন-ভাতার অর্থ ছাড়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইএমআইএস সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রোগ্রামার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অক্টোবর মাসের এমপিও বেতনের জিও প্রস্তুত হয়ে গেছে, এখন শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষা। আজ রাতেই কিংবা সর্বোচ্চ আগামীকাল সোমবারের মধ্যে জিও জারি হতে পারে। একবার জিও প্রকাশিত হলে ফাইলটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। এরপর ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকে বেতন চেক পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হয়, তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) থেকেই বেতন তুলতে পারবেন। তবে কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণে বিলম্ব হলে বুধবার (৫ নভেম্বর) বেতন তোলা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ, সপ্তাহের মধ্যভাগের মধ্যেই সবাই অক্টোবর মাসের বেতন হাতে পাবেন।”
মাউশির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে পুরোপুরি ডিজিটালভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আগে যেখানে হাতে হাতে কাগজপত্র জমা দিয়ে বিল প্রক্রিয়া করতে হতো, এখন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল দাখিল করেন। এরপর ইএমআইএস সেল সেই বিলগুলো যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে বেতনের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়, যা পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম বা বিলম্ব রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনতে ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন পদ্ধতি চালু করেছে। এই ব্যবস্থার ফলে এখন কোনো বিল কাগজে জমা দিতে হয় না, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে বিল যাচাই ও অনুমোদন দিতে পারেন। ফলে মাসিক বেতন প্রক্রিয়াকরণ সময় অনেক কমে এসেছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা আগের তুলনায় দ্রুত বেতন পাচ্ছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ মনে করছেন, এই ডিজিটাল বিল ব্যবস্থার ফলে বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা অনেকটাই কমে গেছে। তাছাড়া, নতুন পদ্ধতিতে ভুল বা জালিয়াতির সম্ভাবনাও হ্রাস পেয়েছে। যদিও কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের দুর্বলতা বা প্রশাসনিক ধীরগতি মাঝে মাঝে বিলম্ব ঘটায়, তবুও সামগ্রিকভাবে এটি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, নিয়মিত বেতন প্রদানের পাশাপাশি এমপিওভুক্তদের অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা, যেমন বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হলে শিক্ষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—বেতন প্রদানের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে দ্রুত পেনশন ও ইনক্রিমেন্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও ডিজিটালাইজড করার।
সবশেষে, মাউশি সূত্র জানিয়েছে যে, অক্টোবর মাসের বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নভেম্বর মাসের বিল গ্রহণ শুরু হবে। যাতে ডিসেম্বরের শুরুতেই শিক্ষক-কর্মচারীরা নভেম্বর মাসের বেতন-ভাতা সময়মতো পেতে পারেন—এমন একটি ক্যালেন্ডারভিত্তিক নিয়মিততা নিশ্চিত করার দিকেও কাজ চলছে।
অক্টোবর মাসে যে সকল শিক্ষক গণ এমপিও ভূক্ত হয়েছেন তাদের বেতন কিভাবে সমন্বয় হবে জানালে খুশি হব।
বিষয়টা পরিস্কার করে বললে জানাতে পারব
পেজের ইনবক্সে মেসেজ দিয়েন আমি ক্লিয়ার করার চেষ্টা তরব
অক্টোবর/২৫মাসে যেসকল শিক্ষক গন এমপিও ভূক্ত হয়েছেন তাদের বেতন কিভাবে সমন্বয় করাহবে।