1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

শিক্ষা উপদেষ্টার আচরণ যেন সেই কথা মনে করিয়ে দেয়- ”সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি”

  • Update Time : সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩৭ Time View
শিক্ষা উপদেষ্টার আচরণ যেন সেই কথা মনে করিয় দেয়- ”সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি”

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতিনির্ধারণের ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্তির এক অন্তহীন কাহিনি। প্রতিবারই একই দৃশ্য—কখনো দাবি ওঠে, কখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়, পরে আসে ক্ষোভ, আন্দোলন, এবং শেষমেশ আপস। সম্প্রতি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবিকে ঘিরে যে ঘটনাপ্রবাহ ঘটেছে, সেটি এই পুরনো চিত্রকল্পকেই নতুনভাবে সামনে এনেছে। এই ঘটনায় শিক্ষা উপদেষ্টার আচরণ, তাঁর সিদ্ধান্তহীনতা এবং পরবর্তীতে নতি স্বীকার—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত প্রবাদ হয়ে উঠেছে: “সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি।”

দাবির সূচনা ও উপদেষ্টার তড়িঘড়ি প্রজ্ঞাপন

প্রথমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে যুক্তিসঙ্গতভাবে ২০ শতাংশ বাড়িভাতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। শিক্ষক সমাজের বক্তব্য ছিল—দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই দাবিটি বাস্তব ও সময়োপযোগী। কিন্তু সেই দাবিটি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটল এক বিস্ময়কর নাটকীয়তা।

তিনি কোনো আলোচনায় না গিয়েই, কোনো পর্যালোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ৫ শতাংশ বাড়িভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করলেন। শিক্ষকরা হতবাক। তারা বললেন, “এটি প্রহসন, এটি শিক্ষকদের সঙ্গে অবিচার।” মিডিয়া, শিক্ষক সংগঠন ও বিভিন্ন মহল থেকে একযোগে প্রতিবাদের ঝড় উঠল। অথচ শিক্ষা উপদেষ্টা ঠান্ডা গলায় জানালেন—

“এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ নেই। অর্থের সংকট, তাই আপাতত এতটুকুই সম্ভব।”

অনুরোধ, অপমান আর অনমনীয়তা

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মানবিকভাবে অনুরোধ করলেন—“আপনি এখন ১০ শতাংশ দিন, পরবর্তী বাজেটে বাকি ১০ শতাংশ দিন।” তাদের যুক্তি ছিল বাস্তবভিত্তিক, তাদের ভাষা ছিল সংযত। কিন্তু শিক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন সম্পূর্ণ অনমনীয়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “না, এর চেয়ে বেশি কিছু সম্ভব নয়।”

এমনকি সভায় উপস্থিত শিক্ষক নেতাদের প্রতি তাঁর আচরণও হয়ে উঠল অমর্যাদাকর। বিরক্তি প্রকাশ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ আগুন হয়ে জ্বলে উঠল।

ক্ষোভ থেকে আন্দোলন

পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে যান, ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে নেমে আসে শিক্ষকদের মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল। প্রশাসন প্রথমে এটিকে হালকা করে নেয়, কিন্তু ক্রমে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

শিক্ষকদের উপর নেমে আসে দমননীতির কঠোরতা—লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি ছিটানোসহ নানা নির্যাতনের চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। দেশের অগণিত শিক্ষার্থী ১০ দিন ধরে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয় এক ভয়াবহ অচলাবস্থা।

শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার

অবশেষে, সব চাপ-আন্দোলন-প্রতিবাদের মুখে শিক্ষা উপদেষ্টা নতি স্বীকার করলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন—বর্তমানে ৭.৫ শতাংশ বাড়িভাতা কার্যকর করা হবে, এবং পরবর্তী বাজেট থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষক সমাজের দাবির জয় হলো, কিন্তু হার হলো প্রশাসনিক বোধ-বিবেকের।

তখনই উঠে এলো সেই চিরচেনা প্রশ্ন—

“যা শেষমেশ দিতে হলো, তা যদি প্রথমেই দিতেন, তাহলে এত বিশৃঙ্খলা, এত ক্ষোভ, এত অপমানের প্রয়োজন ছিল কেন?”

এই প্রশ্নের উত্তরই যেন লুকিয়ে আছে সেই ব্যঙ্গাত্মক প্রবাদে—“সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি।”

নীতি নয়, অহংকারের শাসন

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে নীতি ও বিবেকের জায়গা দখল করে নিচ্ছে আমলাতান্ত্রিক অহংকার। শিক্ষা উপদেষ্টা হয়তো বাজেটীয় সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর আচরণে যে অনীহা, অবজ্ঞা ও একরোখা মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, তা ছিল একজন শিক্ষাবিদ বা নীতিনির্ধারকের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত।

শিক্ষক সমাজ কেবল অর্থের দাবি তুলেনি—তারা চেয়েছিল সম্মান, স্বীকৃতি এবং ন্যায্যতা। কিন্তু তার পরিবর্তে পেয়েছিল উপেক্ষা ও অপমান। এদেশের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না—তাঁরা জাতি গঠন করেন। অথচ তাঁদের দাবিকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে কেবল প্রশাসনিক অহংকারের কারণে।

শিক্ষার ভবিষ্যতের শিক্ষা

এই ঘটনার শিক্ষা খুবই স্পষ্ট—
নীতি প্রণয়ন মানে ক্ষমতা দেখানো নয়, বরং সংলাপ ও সহানুভূতির মধ্য দিয়ে সমাধান খোঁজা। শিক্ষা উপদেষ্টা যদি প্রথম দিনেই শিক্ষকদের অবস্থান বুঝে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতেন, তাহলে রাস্তায় আন্দোলন হতো না, পুলিশের লাঠি উঠত না, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতো না, শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হতো না।

আজ যখন তিনি সেই একই দাবিই মেনে নিলেন, তখন মনে হয়—দেশের শিক্ষা প্রশাসনে এখন সবচেয়ে বড় ঘাটতি অর্থের নয়, বরং মনোভাবের।

“সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি”—এই প্রবাদটি আজ যেন শিক্ষা উপদেষ্টার কর্মকাণ্ডে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। শেষমেশ যা করতে বাধ্য হলেন, তা যদি শুরুতেই করতেন, তাহলে এত অপমান, এত আন্দোলন, এত ক্ষয়ক্ষতির প্রয়োজন ছিল না।

এটি শুধুমাত্র এক উপদেষ্টার ব্যর্থতা নয়; এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার আত্মসমালোচনার সময়। শিক্ষা খাতের সিদ্ধান্তে অহংকার নয়, প্রয়োজন সহানুভূতি, প্রজ্ঞা ও সংলাপের। আর সেই দিনই হয়তো “লোক হাসানো” নয়, “লোকের আস্থা জাগানো” শিক্ষা প্রশাসন আমরা দেখতে পাবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme