বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি জানিয়েছেন, বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাউশির সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। এখন শুধু টেলিটকের চূড়ান্ত সংকেতের অপেক্ষা। সেটি পেলেই দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করা হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মাউশি মহাপরিচালক বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বদলির সুযোগ চালু করা। দেশের অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিজ জেলা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত থাকায় পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষক, অসুস্থ শিক্ষক এবং পারিবারিক কারণে দূরবর্তী এলাকায় কর্মরতদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের।
তিনি বলেন, “বেসরকারি শিক্ষকরা নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করছেন। তাদের কষ্ট আমরা অনুধাবন করতে পারি। চেষ্টা করছি যেন দ্রুত তাদের নিজ জেলার কাছাকাছি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি।”
ডিজি জানান, বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য মাউশির হাতে এসেছে। তবে এখনো প্রায় ২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়নি। বাকি তথ্য সংগ্রহের কাজও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, মাউশি ও টেলিটক কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টেলিটকের সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে অনলাইনে বদলি আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বদলি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আবেদন, যাচাই-বাছাই এবং পদায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে বদলি নীতিমালার আওতায় আবেদনযোগ্যতার বিষয়ে কিছু নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, শিক্ষকরা মূলত নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট জেলার মধ্যে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করার চেষ্টা করলে সফটওয়্যার থেকেই আবেদন অযোগ্য বলে বার্তা দেখানো হবে।
মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি কার্যক্রম শুরু হলে হাজার হাজার শিক্ষক এর সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষকরা পরিবার-পরিজনের কাছাকাছি কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষকদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বদলি কার্যক্রম চালুর খবরে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা দ্রুত আবেদন গ্রহণের তারিখ ঘোষণা এবং স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত প্রক্রিয়ায় বদলি সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে টেলিটকের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
Leave a Reply