বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষকরা তিনটি নির্ধারিত এলাকার বাইরে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করার চেষ্টা করলে সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘আবেদন যোগ্য নন’ (Not Eligible) বার্তা প্রদর্শিত হবে এবং আবেদন সম্পন্ন করা যাবে না।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যারে এ ধরনের বিধিনিষেধ সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে নীতিমালার বাইরে কোনো আবেদন গ্রহণ না হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক কেবল তিনটি নির্ধারিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এগুলো হলো—নিজ জেলা, স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল অবস্থিত জেলা। এই তিনটি এলাকার বাইরে অন্য কোনো জেলা বা প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়নি।
মাউশির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বদলি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, নীতিমালা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে সফটওয়্যারটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে আবেদনকারী নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করলেই আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তখন সফটওয়্যারে ‘আবেদন যোগ্য নন’ বার্তা প্রদর্শিত হবে এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “নিজ জেলা, স্পাউজের নিজ জেলা এবং স্পাউজের কর্মস্থলের বাইরে আবেদনের সুযোগ নেই। কেউ চাইলেও আবেদন করতে পারবেন না। সফটওয়্যারটি নীতিমালার আলোকে তৈরি করা হয়েছে, তাই নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করার সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে বদলি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং বিশেষ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ থাকলেও নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থায় এসব সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। কারণ আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সফটওয়্যার আবেদনকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তার যোগ্যতা নির্ধারণ করবে। ফলে নীতিমালার বাইরে কোনো আবেদন গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।
মাউশি সূত্র আরও জানিয়েছে, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, কর্মস্থল, নিজ জেলা এবং স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য যাচাই করেই সফটওয়্যার আবেদন গ্রহণ করবে। এসব তথ্যের সঙ্গে আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের অবস্থান মিলিয়ে দেখা হবে। শর্ত পূরণ না হলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এদিকে বদলি কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষক দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত থাকায় নিজের পছন্দের জেলায় বদলি হওয়ার আশা করলেও নতুন নীতিমালার কারণে তারা নির্ধারিত তিনটি এলাকার মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বদলি নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় শিক্ষকদের যৌক্তিকভাবে বদলির সুযোগ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে এলোমেলো বা অযৌক্তিক আবেদন কমিয়ে দ্রুত এবং স্বচ্ছ উপায়ে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
মাউশি আশা করছে, সফটওয়্যারনির্ভর এ পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নীতিমালাসম্মত হবে। ফলে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত বদলির পুরো প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপ কমবে এবং অনিয়মের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
Leave a Reply