শিক্ষক-কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা পুনরায় জারি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করে দেশের সব সরকারি স্কুল, কলেজ, অধিদপ্তরের অধীনস্থ দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠির সঙ্গে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ সংযুক্ত করে তা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ প্রণয়ন করেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কিংবা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার সময়ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নির্দেশিকার বিধান মেনে চলতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশিকার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা সরকারি আচরণবিধি পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বহীন বা অনিয়ন্ত্রিত পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করা জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
নির্দেশনা দেখুন এ লিংক
এ কারণে নির্দেশিকা অমান্য করার বিষয়টি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজন হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও চিঠিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তর এবং সেখানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ শতভাগ অনুসরণ করার জন্য পুনরায় নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে মাউশি।
মাউশি মনে করছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও বিধিসম্মত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং জনস্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের তথ্য, মতামত, ছবি বা মন্তব্য প্রকাশের আগে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply