বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন বদলি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। বদলি আবেদনের জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে আলাদা পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই নির্ধারিত সফটওয়্যারে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। তবে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাওয়ার বিধান থাকায় শুরুতে অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল—তাহলে কি কেবল দুইজন শিক্ষকই পাসওয়ার্ড পাবেন, নাকি সব শিক্ষককে পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে?
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। বদলি আবেদনের জন্য সব এমপিওভুক্ত শিক্ষকই পৃথক পাসওয়ার্ড পাবেন। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে যতজন শিক্ষক থাকবেন, প্রত্যেকের জন্যই আবেদন করার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে এবং সবার জন্য আলাদা লগইন পাসওয়ার্ড সরবরাহ করা হবে।
তবে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও সবাই শেষ পর্যন্ত বদলি হতে পারবেন না। কারণ বদলি নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সীমাও কার্যকর থাকবে। নীতিমালা অনুযায়ী একটি স্কুল অথবা কলেজ থেকে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক থাকলে সেই বিষয় থেকে কেবল একজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবেদন করার সুযোগ থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। সব শিক্ষকই পাসওয়ার্ড পাবেন এবং আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যতটি শূন্য পদ থাকবে এবং নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী যাঁরা যোগ্য হবেন, তাঁরাই বদলির সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ আবেদন করার অধিকার সবার থাকলেও বদলির অনুমোদন নির্ভর করবে শূন্য পদের সংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর।
শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, সেটি নীতিমালার শর্ত অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। ফলে নির্ধারিত তিনটি এলাকার বাইরে কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
মাউশি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বদলি নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তিন ধরনের এলাকায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এগুলো হলো—
এই তিনটি এলাকার বাইরে অন্য কোনো জেলা বা প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করার চেষ্টা করলে সফটওয়্যার আবেদন গ্রহণ করবে না। বরং আবেদনকারীকে ‘আবেদন যোগ্য নন’ (Not Eligible) বার্তা দেখাবে।
মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সফটওয়্যারটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে নীতিমালার বাইরে গিয়ে কেউ আবেদনই করতে না পারেন। তিনি বলেন, ‘নিজ জেলা, স্পাউজের নিজ জেলা এবং স্পাউজের কর্মস্থলের বাইরে আবেদন করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কেউ চাইলে আবেদন করতে পারবেন না, কারণ সফটওয়্যারই তা আটকে দেবে।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। আবেদন শুরুর আগে প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শিক্ষকরা নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে বদলির আবেদন করতে পারবেন।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ, ইনপুট এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের তথ্য সফটওয়্যারে সংযোজন ও ভ্যালিডেশন সম্পন্ন হয়েছে। অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেয়নি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাদ রেখেই বদলি আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, আবেদন কার্যক্রম শুরুর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এজন্য মাউশি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠাবে। তবে সেই চিঠি পাঠানোর আগেই শিক্ষকদের পাসওয়ার্ড বিতরণের কাজ শেষ করতে চায় অধিদপ্তর।
বদলি সফটওয়্যার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড শিক্ষকদের জন্য পৃথক পাসওয়ার্ড তৈরি ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
মাউশি সূত্র বলছে, পাসওয়ার্ড প্রস্তুত ও বিতরণ সম্পন্ন না হওয়ায় বদলি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ শিক্ষকদের হাতে পাসওয়ার্ড পৌঁছানোর পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইন বদলি আবেদন গ্রহণ শুরু করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, টেলিটক দ্রুত পাসওয়ার্ড সরবরাহের কাজ শেষ করলে বহু প্রতীক্ষিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply