বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার পরিবর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তাঁর মতে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই আঞ্চলিক পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন করা হলে বদলি কার্যক্রম আরও দ্রুত, কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মাউশি মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “বেসরকারি শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি অনেক বড় ব্যাপার। এ কাজ করতে গিয়ে আমরা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না। তাদের বদলির বিষয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে ভালো হতো।”
ডিজির এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রথমবারের মতো বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য বদলির সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগকে শিক্ষক সমাজ ইতিবাচকভাবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে বদলি কার্যক্রমের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন, তথ্য যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ, শূন্যপদের সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এসব কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করায় মাউশির কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অধিদপ্তরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজও কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে মাউশি ডিজির প্রস্তাব হলো, আঞ্চলিক উপপরিচালকের কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে বদলির আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা হলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণও সহজ হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকি, পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফলে বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও তাদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে আবেদনকারীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হবে এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে বদলি কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করতে হলে সুস্পষ্ট নীতিমালা, দায়িত্ব বণ্টন এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশও দীর্ঘদিন ধরে বদলি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে সম্পৃক্ত করা হলে শিক্ষকরা কম সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষক, পারিবারিক কারণে দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যগত কারণে বদলি প্রত্যাশীদের জন্য এটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে সরকার বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং বদলি আদেশ জারির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এ অবস্থায় মাউশি মহাপরিচালকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। যদি এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রশাসনিক চাপ কমার পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সেবামুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
Leave a Reply