এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাই ২০২৬ মাসের বেতনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ড্যাশবোর্ডে জুলাই মাসের বেতনের তালিকা দৃশ্যমান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেতন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এখনই বেতন উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়নি, তবুও ড্যাশবোর্ডে বেতন তালিকা প্রদর্শিত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে খুব শিগগিরই জুলাই মাসের বেতন তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতি মাসের বেতন ছাড়ের আগে নির্ধারিত প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইএফটি ড্যাশবোর্ডে বেতন তালিকা আপলোড করা হয়। তালিকা দৃশ্যমান হওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ ছাড়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে ড্যাশবোর্ডে বেতন তালিকা দেখা গেলেও সেটি সরাসরি বেতন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নয়; বরং এটি পুরো প্রক্রিয়ার একটি অগ্রসর ধাপ।
জুলাই মাসের বেতনকে ঘিরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এবার অন্যরকম আগ্রহ ও প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, এই মাসের বেতন থেকেই তারা বর্ধিত বাড়িভাড়া সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের দাবি এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়িভাড়ার হার ১৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় জুলাই মাসের বেতন অনেকের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ফলে বেতন ছাড়ের প্রতিটি ধাপ শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে এখন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর ভাষ্য, বেতন তালিকা ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হওয়া স্বস্তিদায়ক হলেও তারা এখন অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত অর্থ ছাড়ের ঘোষণার জন্য। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ড্যাশবোর্ডে তালিকা প্রকাশের পরও অর্থ ছাড় এবং ব্যাংক হিসাবে বেতন পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগেছে। তাই এবারও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বেতন ব্যাংকে পৌঁছানোর খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তাহলে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জুলাই মাসের বেতন শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ইএফটি ড্যাশবোর্ডে তালিকা প্রকাশ পাওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বর্ধিত বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ায় জুলাই মাসের বেতন অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির দাবিটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। অবশেষে ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া কার্যকর হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। যদিও তাদের বিভিন্ন সংগঠন ভবিষ্যতে আরও কিছু ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি অব্যাহত রেখেছে।
ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ চালু হওয়ার পর থেকে বেতন বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিল দাখিল, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে বেতন পাঠানো হয়। এর ফলে আগের তুলনায় জটিলতা কমেছে এবং বেতন প্রাপ্তির পুরো প্রক্রিয়াটি আরও আধুনিক ও ডিজিটাল হয়েছে।
সব মিলিয়ে জুলাই ২০২৬ মাসের বেতন কার্যক্রম এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইএফটির ড্যাশবোর্ডে বেতন তালিকা দৃশ্যমান হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। এখন তাদের দৃষ্টি অর্থ ছাড়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার দিকে। যদি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম শেষ হয়, তাহলে চলতি সপ্তাহের শেষ ভাগ কিংবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জুলাই মাসের বেতন হাতে পেতে পারেন। আর সেই বেতনের মাধ্যমেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া সুবিধার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবেন।
Leave a Reply