বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি আবেদন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের অসহযোগিতার কারণে পুরো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কিছু প্রযুক্তিগত কাজ শেষ না হওয়ায় বদলি আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টেলিটককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে মাউশি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মাউশির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শিক্ষকদের বদলি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড সরবরাহ, তথ্য যাচাই-বাছাই (ভ্যালিডেশন) সম্পন্ন করা এবং সফটওয়্যারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ করার দায়িত্ব টেলিটকের। এসব কাজের অগ্রগতি না থাকায় আবেদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও টেলিটকের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাউশির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সফটওয়্যার সংক্রান্ত যেসব চূড়ান্ত কাজ টেলিটকের করার কথা, সেগুলো এখনো সম্পন্ন হয়নি। তারা আমাদের সবুজ সংকেত দিচ্ছে না। ফলে আমরা পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না। এ অবস্থায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বদলি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাউশির প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু সফটওয়্যার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিলম্বের কারণে পুরো প্রক্রিয়াই আটকে আছে।’
মাউশি সূত্রে আরও জানা গেছে, বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ইচ্ছামতো দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। বদলি নীতিমালায় নির্ধারিত তিনটি এলাকার মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার চেষ্টা করলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন গ্রহণ করবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফটওয়্যারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিক্ষক নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করলেই ‘আবেদন যোগ্য নন’ (Not Eligible) বার্তা প্রদর্শিত হবে এবং আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে না।
নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা শুধুমাত্র—
বদলির আবেদন করতে পারবেন।
এই তিনটি এলাকার বাইরে অন্য কোনো জেলায় আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে মাউশির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজ জেলা, স্পাউজের নিজ জেলা এবং স্পাউজের কর্মস্থলের বাইরে আবেদন করার কোনো সুযোগ নেই। সফটওয়্যার সেই অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। কেউ চাইলেও নির্ধারিত এলাকার বাইরে আবেদন করতে পারবেন না।’
এদিকে বদলি আবেদন গ্রহণের পূর্বে প্রত্যেক এমপিওভুক্ত শিক্ষককে একটি করে বিশেষ পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাউশি।
সূত্র জানায়, এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই শিক্ষকরা অনলাইন সফটওয়্যারে প্রবেশ করে বদলির আবেদন করতে পারবেন। পাসওয়ার্ড বিতরণের দায়িত্বও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি সেই কাজ শেষ করতে পারেনি। ফলে আবেদন শুরুর সময়সূচি নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও সফটওয়্যারে ইনপুটের কাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ইনপুট এবং ভ্যালিডেশন সম্পন্ন হয়েছে। খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনো প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেয়নি। প্রয়োজনে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত বাদ দিয়েই বদলি আবেদন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের হাতে পাসওয়ার্ড পৌঁছে দেওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে মাউশি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই অনলাইন বদলি আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, টেলিটক যতদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের পাসওয়ার্ড সরবরাহসহ বাকি প্রযুক্তিগত কাজগুলো সম্পন্ন না করবে, ততদিন পর্যন্ত বদলি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না। ফলে বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি টেলিটকের কাজের ওপরই নির্ভর করছে।
Leave a Reply