আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, বেতনকাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব বেশি সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে ঋণ প্রত্যাশা করছে, তা পেতে কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার এ বিষয়ে নিয়মিত কাজ করছে এবং নির্ধারিত সময়েই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খুব বেশি দেরি না করেই নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এ সময় বেতনকাঠামো নিয়ে ঘন ঘন মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একই বিষয় নিয়ে বারবার কথা বলতে তিনি আগ্রহী নন। বিভিন্ন গণমাধ্যম নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে সংবাদ প্রকাশ করছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে তিনি এ বিষয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তিনি বিস্তারিত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরাসরি কোনো আপত্তি বা শর্ত দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে কোনো দেশের বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা সংশ্লিষ্ট সরকারের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার আইএমএফের নেই।
তবে সংস্থাটি নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি তারা সরকারকে রাজস্ব আহরণ আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কমিশনের সুপারিশ, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন মিললেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর অর্থ বিভাগ নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি করবে। সেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply