1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

উৎসব ভাতা নাকি অভিশপ্ত ভাতা।

  • Update Time : সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০২৫
  • ১০৪ Time View
উৎসব ভাতা নাকি অভিশপ্ত ভাতা

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর পূর্বে, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ শুরু হয়েছে সেই ১০৮১ইং সালে সেই হিসাবে ৪৪ বছর পূর্বে। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা চালূ হয়েছে সেই আজ থেকে প্রায় ২১ বছর পূর্বে ২০০৩ইং সালে। ২০০৩ সালের পূর্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা উৎসব ভাতা পেতেন না। ২০০৩ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের অক্টোবর থেকে সেটি কার্যকর হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষকদের দেওয়া হবে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ। তবে দুই ঈদে ২৫ শতাংশ করে ভাগ করে তা দেওয়া হবে। সেই থেকে প্রতি ঈদে শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। ওই সভায় কর্মচারীদের শতভাগ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুই ঈদে ৫০ শতাংশ করে তা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় দুই যুগ আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও ঈদুল ফিতরে ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এতদিনে পৃথিবী বহু পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে ঘটেছে নানাবিধ অন্যায়ের অবসান হয়নি কেবল শুধু কোন এক অজানা কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা নামক অভিশপ্ত ভাতার উন্নয়ন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সকল ভাতাকেই (উৎসব ভাতা,বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ) আপনি অভিশপ্ত ভাতা নামে অভিহিত করতে পারেন কেবল বৈশাখী ভাতা ছাড়া।

আরও পড়ুন……মাউশি ডিজির ঈদ সংযম নাকিদ উপহাস?

অভিশাপ হল কোন প্রকাশিত ইচ্ছা যে কোন প্রকার প্রতিকূলতা বা দুর্ভাগ্য ঘটবে বা এক বা একাধিক ব্যক্তি, একটি স্থান বা একটি বস্তুর সাথে সংযুক্ত হবে।

অভিশপ্ত কি? অভিশপ্ত এমন একটি বিষয় যা কোন ব্যাক্তির জীবনে কাঙ্খিত কোন বিষয়কে দীর্ঘদিন কোন এক অজানা কারণে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করে রাখা হয়। যার কোন কারণ থাকে না। থাকে বিভিন্ন প্রকার অন্যায় অজুহাত ও নানাবিধ ক্ষমতার অপব্যবহার।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা সহ অন্যান্য সকল ভাতা প্রদানের কথা উঠলেই নানাবিধ অন্যায় অজুহাত আমাদের কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে দেখা যায়। যা প্রদান করলে এ রাষ্ট্রের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে।

শিক্ষকরা বলছেন, দুই ঈদে ৫০ শতাংশ বোনাসের সিদ্ধান্ত যখন হয়, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৯৫ শতাংশ সরকারের কাছ থেকে পেতেন। বর্তমানে শতভাগ বেতন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেলেও দীর্ঘ ২৩ বছরেও শিক্ষকদের বোনাস বৃদ্ধি পায়নি। তাহলে এই সিদ্ধান্তকে আমরা কি বলব, তাহলে এই ভাতা কে অভিশপ্ত ভাতা না বলে উপায় আছে কি?

আর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হল এই যে, সরকার যদি আমাদের উৎসব ভাতা একেবারেই না দিত তাহলে এত বিষয়টা দৃষ্টিকুটু লাগত না। আমরা বিষয়টা মেনে নিতে পারতাম যে, আমাদের পেশায় কোন উৎসব ভাতার প্রচলন নাই। অতএব আমাদের এভাবে মানিয়ে চলতে হবে। কিন্তু বিষয়টা চালূ থাকার পরও যদি সারাজীবন একই রকম থাকে তাহলে বোঝার আর বাঁকি থাকে না যে, এখানে কর্তৃপক্ষের সদ্বিচ্ছার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

হ্যাঁ সরকার যখন শুরু করেছিল তখন হয়ত অল্প থেকে শুরু করেছিল তা ভাল কথা কিন্তু সারাজীবন সেখানেই আটকে থাকতে হবে তাহলে বুঝতে হবে কোন একটি নিদিষ্ট কারণ নিশ্চয় আছে। কিন্তু সে কারণ যদি অপ্রকাশিত থাকে তাহলে তাকে আপনি অভিশপ্ত না বলে আর কি বলবেন।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কলেজের অধ্যক্ষদের বেতন স্কেল ৫০ হাজার টাকা, উপাধ্যক্ষ ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষদের ৪৩ হাজার টাকা, সহকারী অধ্যাপকের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, টাইম স্কেলপ্রাপ্ত প্রভাষক ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ২৯ হাজার টাকা, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ২৩ হাজার টাকা, প্রভাষক/গ্রন্থাগারিক, সহকারী শিক্ষকদের (টাইম স্কেলপ্রাপ্ত) ২২ হাজার টাকা, প্রদর্শক/সহকারী গ্রন্থাগারিক/শরীরচর্চা শিক্ষক/সহকারী শিক্ষকদের (টাইম স্কেল ব্যতীত) ১৬ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের (বিএড ব্যতীত) ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি প্রিন্সিপাল দেলাওয়ার হোসেন আজিজী  বলেন, ‘সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ২৫% উৎসব ভাতা হিসেবে একজন এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক পায় মাত্র ৩১২৫ টাকা। এই সামান্য অর্থ দিয়ে একজন শিক্ষকের পক্ষে কোনোভাবেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব নয়। তার চেয়ে যদি না দিত তাহলে আমরা এককথায় বলতাম যে, আমাদের কোন উৎসব ভাতা সরকার প্রদান করে না। উৎসব আমাদের জন্য নয়।

এ শিক্ষক নেতা জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের লাগাতার ২২ দিনের আন্দোলনের কারণে সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বিদায়ী প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ঈদ-উল-আযহা থেকে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির এবং সম্পূরক বাজেট এবং আগামী বাজেট থেকে বাড়িভাড়া ও মেডিকেল ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা অবিলম্বে ঘোষণা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জেনেছি। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা সহ অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার যদি এখনও যুগোপোযোগী সিদ্ধান্ত না নেয়। সরকার বা যথাযথ কর্তপক্ষ যদি এই ভাতা প্রদানের অভিশাপ থেকে এখনও আমাদের মুক্তি না দেয় তাহলে কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অভিশপ্ত আত্নার রোষানলে পুড়ে যাবে একসময়। যা এ দেশ ও জাতির জন্য হবে এক অকল্যাণকর।

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “উৎসব ভাতা নাকি অভিশপ্ত ভাতা।”

  1. […] আরও পড়ুন…….উৎসব ভাতা নাকি, অভিশপ্ত ভাতা। […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme