এদশের যারা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আছে তাদের বিবেক বুদ্ধি দেখলে এককথায় বলতে ইচ্ছা করে ঘৃণা হয় আপনদের বিবেক বুদ্ধি, ঘৃণা হয় আপনদের রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মনীতিতে। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা নিদিষ্ট সময়ে তাদের বেতন তুলতে পারে না। আর সেখানে বিশেষশায়িত ব্যাংক খোলা থাকবে কিন্তু তা শিক্ষকদের জন্য নয়। শিক্ষকদের কি কোন অবদান নেই এদেশের উন্নয়নে। শিক্ষকরা যদি শিক্ষা প্রদান না করে, শিক্ষকরা যদি না শেখায় তাহলে কি আপনাদের শিল্প কারখানা চলবে।
আরও পড়নু…..আশা করা যাচ্ছে সাড়ে ৩ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী বেতন বোনাস ছাড়াই ঈদ করবেন।
আজ কাল পরশু করে করে দিনের পর দিন পার করে শেষ সময়ে এসে কাজের ব্যস্ততা, কাজের চাপ নানা অজুহাত নিয়ে তৈরি মাউশির ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা। তাদের অদক্ষতা ও মাউশির ডিজির অবহেলা কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বোনাস নিয়ে আজকের এই জটিলতা তৈরি।
নজিরবিহীন অবহেলা, অদক্ষতা ও বঞ্চনার শিকার সাড়ে তিনলাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের সরকারি সহকর্মীরা মার্চ মাসের বেতন ও উৎসব ভাতার টাকা পেয়েছেন ইতিমধ্যে। ইএফটি নামক জুজু দেখিয়ে আরো অনেকে ডিসেম্বর থেকে বেতন পাচ্ছেন না। এসব নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি কর্তাদের। উপপরিচালক ব্যস্ত বদলি বাণিজ্যে। ইএমআইএসের জামিল ও জহির ব্যস্ত ঘুষে। অন্যন্যরা ব্যস্ত অহেতুক সেমিনার ও মিটিংয়ে। গণমাধ্যম এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। একটা বিষয় ভালো করে ভেবে বলেন তো আমাদের বর্তমানে মাউশি যেভাবে বেতন প্রদান করতেছে এটা কি ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রদান কিনা। এই নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমি পরে দিব। ইএফটির কার্যক্রম তো এভাবে চলার কথা নয়।
জানা যায়, তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হলে শেষ সময়ে এসে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একদিন অতিরিক্ত ব্যাংক খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের কর্তারা। তবে, এসব উদ্যোগ লোকদেখানো এবং অহেতুক শান্তনা হিসেবে অভিহিত করেছেন বেতন-ভাতা বঞ্চিত শিক্ষকরা।
তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়াত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে এমপিও শিক্ষকদের টাকা বন্টন হয়। অনেকের ডিসেম্বর মাস থেকে বেতন-ভাতা আটকা।
জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডার পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক-কর্মচারী মার্চের বেতন ও উৎসব ভাতা পাওয়ার জন্য আরো একদিন ব্যাংক খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ গত কয়েকদিন ধরে অবহেলা ও অদক্ষতায় সময় কেটেছে শুধু শুধু।
তবে, প্রশাসন ক্যাডার পরিচালিত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন শিক্ষক-কর্মচারীরা তুলনামূলক কম হয়রানির শিকার। উৎসব ভাতার টাকা তারা তুলতে পেরেছেন অনেকেই।
আজ শেষ সময়ে এসে হয়তবা সবার বেতন ও বোনাসের মেসেজ এসেছে কিন্তু কতজন সেই টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে পেরেছেন বলতে পারেন। বড় জোড় ২০ থেকে ২৫% শিক্ষক কর্মচারী হয়তবা বেতন ও বোনাস উঠাতে পেরেছেন। তাহলে বাকিদের কি উপায়? বাকিদের জন্য কি ঈদের আনন্দ নয়। তারা কি মানুষ নয় তাদের ছেলেমেয়েদের কি অপরাধ বলতে পারেন। এদেশ বা রাষ্ট্র কি এ দায় এড়াতে পারে?
Leave a Reply