কিভাবে শুরু করব ভাবছিলাম এমন সময় টিভিতে একটি টিক শো শুরু হল তার দিকে দৃষ্টি ফেরাতেই দেখি সেখানে একটি পত্রিকার শিরোনাম এমন যে বেতন ভাতা ছাড়াই সাড়ে তিনি লক্ষ শিক্ষকের ঈদ। উপস্থাপক শিরোনামটি পড়লেন আমি শুনে একটি নড়েচড়ে বসলাম ভাবলাম মনে শিক্ষকদের দুংখ দূর্দশা নিয়ে মনে হয়ে কথা বলবে। কিন্তু আমার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল অনুষ্ঠানের যিনি বিশ্লেষক এবং উপস্থাপক ছিলেন তারা পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আর কোন আলোচনাই করল না। বিশ্লেষক ছিলেন স্বনামধন্য এক রাজনীতির পাতাবাহার। যাদের দেখতে ভাল লাগে, যাদের কথা শুনতেও ভাল লাগে কিন্তু এদের দিয়ে এ দেশ ও জাতির কোন কালেই কোন উপকার হয়েছে বলে আমার চোখে অন্তত পড়েনি। যাক সেই কথা আমি আপনি যতই বলি না কেন এই সকল স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবিদের চরিত্র এত সহজে পরিবর্তন হবে বলে আশা করা যায় না।
আরও পড়নু…..রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কিন্তু বড় সমস্যা।
জনৈক পাতাবাহারদের শুধু একটি কথাই বলব যে, আমি আপনি যত বড়ই বুদ্ধিজীবিই হই না কেন কোন না কোন শিক্ষকের নিকট পড়াশুনা করেই তো হয়েছি নিশ্চয়ই। সেই শিক্ষকের পক্ষে একটা কথা বলতে আপনাদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তখন বুঝতে আর বাঁঁকি থাকে না। আপনার ও আপনাদের মত পাতাবাহারদের আসল চরিত্র।
যাই হোক এখন আসি যে প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে চেয়ছিলাম সেখানে ক’দিন বাদেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব ঘিরে গোটা দেশে আনন্দের ছটা। কিন্তু এর ছোঁয়া লাগেনি প্রায় তিন লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ঘরে। মেলেনি বেতন-ভাতা। ঈদের আগে বেতন পাবেন এই সুযোগও নেই। শিক্ষকদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাবেই এই অবস্থা। অভিযোগ তাদের সুদ বাণিজ্যের কারণেই বর্তমান এই অবস্থার অবতারণা হয়েছে। তারা চাইলেই ঈদের আগে বেতন-ভাতা দিতে পারতেন।
ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি)’র মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেয়া শুরু হয়েছে শিক্ষকদের। শিক্ষকদের বেতন তোলা নিয়ে ভোগান্তি লাঘবের জন্যই নতুন এই পদ্ধতি। কিন্তু সেখানেও মেলেনি কোন মুক্তি, তারফলেও ভাঙতে পারেনি মাউশির সিন্ডিকেটর দৌড়াত্ন। প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছেন বেতনের। বৃহস্পতিবার বেতন-ভাতা ছাড় হলেও তা তুলতে না পারার শঙ্কা রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বলছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ব্যাংকে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। এখনও কোন প্রকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।
তথ্যমতে, ১লা জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটি’র মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। দ্বিতীয় ধাপে ৬৭ হাজার, তৃতীয় ধাপে ৮৪ হাজার এবং চতুর্থ ধাপে ৮ হাজার ২০০ এর অধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ পেয়েছেন জানুয়ারি মাসের বেতন। তবে মার্চ শেষ হতে চললেও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ উৎসব ভাতা পাননি শিক্ষকরা। শুধু তাই নয়, ডিসেম্বরের বেতন মেলেনি সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর। গত মঙ্গলবার এ ধাপের ৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের বেতনের মেসেজ পেয়েছেন। তবে তুলতে পারেননি সে অর্থ। মাউশির শুধু একটাই অজুহাত এবং তা প্রতিমাসেই প্রয়োগ করে থাকে তা হলো নানাধরনের জটিলতা, শেষ মূহূর্তের জটিলতা, এত সহজ বিষয় নয়।
তিনি বলেন, আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সনদপত্রের নামের মিল নেই। এখন ত্বরিত নামটাও সংশোধন করতে পারছি না। এই কারণে সার্ভারে এন্ট্রি দিতে পারিনি। বেতন ছাড়া অনেক কষ্টে জীবন চলছে। এখন এসেছি সমাধানের জন্য।
বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রভাষক মো. শান্ত আলী বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বোনাস প্রদানে মাউশি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবেহলা আমাদেরকে চরমভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে সবসময় মাউশি গা-ছাড়া ভাব দেখিয়ে এসেছে। শিক্ষকরা যদি সরকারের আওতাভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও ২৩ তারিখের মধ্যে বেতন বোনাস দেয়া হলো না কেন?
তিনি বলেন, কয়েক লাখ শিক্ষকের ঈদ আনন্দ ইতিমধ্যে ম্লান হয়ে গেছে। সমাজ ও পরিবারের কাছে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছে না। এভাবে আসলে আর চলতে দেয়া যায় না। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অভিভাবকের প্রশ্নে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে। তরুণ শিক্ষকরা এই বৈষম্য ও অবহেলা সহ্য করবে না।
শান্ত বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করবো অতি দ্রুত শিক্ষকদের বেতন-বোনাস প্রদানের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
ওদিকে মাউশি বলছে, নতুন একটি প্রক্রিয়া। তাই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। মাউশি’র এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ইএমআইএস) সেল জানায়, প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নাম। অনেকেই নাম সনদপত্রে একই নাম নেই। আগে সমস্যা হয়নি কিন্তু সার্ভারে ভিন্ন নামের কারণে আটকে গেছেন। আবার অনেক নারী বিবাহের পর পরিবর্তন করেছেন নামের। আবার অনেকেরই ডট, কমা, হাইফেন ইত্যাদিতে রয়েছে ভিন্নতা। তবে ইএফটি সেল ডট, কমা, হাইফেন এসবে ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেভাবেই সংশোধন করা হবে সার্ভার। তবে যাদের সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের ভিন্নতা বেশি (৫০ শতাংশের বেশি অমিল) ও জন্মতারিখ সঠিক নয় তাদের সংশোধন করেই ইএফটিতে যুক্ত হতে হবে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইএমআইএস সেলের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট খন্দকার আজিজুর রহমান বলেন, সার্বিক বিষয়ের কাজটি খুবই জটিল। এখানে প্রতিটি শিক্ষকের তথ্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা ছাড় দেয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছি কিন্তু ভুল করতে চাই না।
একই কথা আজ কয়েক মাস থেকে বলে যাচ্ছে মাউশি ও তার দূর্নীতির বাস্তবায়নকারী সহযোগী ইআইএমএসসেল ও তার কর্মকর্তারা। প্রতিমাসেই কি নতুন নতুন করে তথ্য যাচাই বাছাই করা লাগে যে, প্রতিমাসে বেতন প্রদানে জটিলতার তৈরি হবে। একজন শিক্ষকের তথ্য যাচাই বাছাই করতে একবার জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং সেই জটিলতা একবার নিরসন করা গেলে দ্বিতীয়বার তো একই জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়।
মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন অনলাইনে দেয়া খুব সহজ বিষয় না। অনেকের তথ্যগত ভুল রয়েছে। তবুও মানবিক বিবেচনায় তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদনও দিয়েছে। বাকি কাজ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকের। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়, আইবাস ও ইএমআইএস সেলের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলা হয়েছে। তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
বিষয়টি সহজ নয় তা আপনি যেমন জানেন তা আমরাও জানি, কিন্তু এই জটিল কাজ গুলো সহজ ভাবে করার জন্যই তো আপনাদের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আপনাদের ভরণপোষন করা হচ্ছে। জটিল বিষয় সহজ ভাবে সমাধান করাটাই তো আপনার বা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি না পারেন তাহলে অন্য কারও কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন কিন্তু এভাবে নিজের অপরাগতার কারণে অন্যদের কষ্টের কারণ হতে পারেন না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির কাছে জিজ্ঞাসা?
সাড়ে তিন লাখের উপর শিক্ষক কর্মচারীদের ডিসেম্বর এবং জানুয়ারী মাসের বেতন EFT এর মাধ্যমে প্রদান করেছিলেন।
কেন এখন গত ফেব্রুয়ারী মাসের এবং ঈদ বোনাস ছাড়ের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি থেকে টেকনিক্যাল সমস্যার দোহাই দেয়া হচ্ছে?
EFT এর ১থেকে ৫ লট পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ঈদের বোনাসের অফিসিয়াল অনুমোদনের কাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৫ দিন পূর্বে শেষ করে বেতন ছেড়ে দিতে পারতেন নাকি?
শেষ মুহূর্তে এসে টেকনিক্যাল সমস্যা এবং ব্যাংকের দিকে আঙ্গুল দেখানো কার দিকে প্রশ্ন বোধক চিহ্ন এঁকে দেয় ?