1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২০ অপরাহ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি ইএফটি!

  • Update Time : বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৬৫৪ Time View
ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি ইএফটি!

ভাগ্যের নির্মমতার বেড়াজালে বন্দি এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ। প্রতিবারই তারা কোন না কোন ভাবে ভাগ্যের নির্মমতার বলি হয়। সকলের বেলায় একরকম নিয়ম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেলায় নিয়মের পরিবর্তন যেন এক সময়ের ব্যাপার এদেশের আমলাতন্ত্রের দাপটে।

হ্যাঁ, ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) সিস্টেমটি অন্যান্য সকল পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এটি এখনও সুবিধাজনক পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায় নি, যার কারণে তা অনেক শিক্ষকের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে পারছে না। এর মূল কারণগুলি হলো:

১. প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং সিস্টেমের অস্থিরতা:
ইএফটি ব্যবস্থায় শিক্ষকদের বেতন ব্যাংক একাউন্টে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য একটি প্রযুক্তির প্রয়োজন, তবে এই প্রযুক্তি অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ করে না। সিস্টেমের গণ্ডগোল, সার্ভার সমস্যাসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি কারণে শিক্ষকদের বেতন সময়ে পৌঁছানো বা সঠিক পরিমাণে বিতরণে বিলম্ব হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই জানিয়ে থাকেন যে তাদের বেতন প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। যদিও এ সমস্যা ইএফটির নয় এই সমস্যা তৈরী করছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইএফটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের হাতে সেই মাউশি। কারণ প্রায় সকল শিক্ষকের সঠিক তথ্য মাউশির ইএমআইএসসেলের নিকট রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ব্যাংক একাউন্ট নম্বরের ভুল, নামের ভুল বানান, অথবা মোবাইল নাম্বারের ভুল ইত্যাদি কারণে ইএফটি সিস্টেমে তথ্য সঠিকভাবে আপডেট হয় না। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়ার কারণে শিক্ষকদের বেতন প্রদান অনির্দিষ্টকাল বিলম্বিত হয় এবং এটি তাদের জীবনে আর্থিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

২. তথ্য যাচাইয়ের জটিলতা:

ইএফটি সিস্টেমে সঠিক বেতন প্রক্রিয়া চালু করার জন্য শিক্ষকদের সঠিক তথ্য আপডেট এবং যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বা ব্যাংক একাউন্টের নাম ঠিকভাবে যাচাই করা হয় না, যার ফলে বেতন দেয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে থাকে। এর পাশাপাশি, শিক্ষকদের সঠিক কর্মস্থল বা পদবী সংশোধন না হওয়া, ইএফটি সিস্টেমের সাথে অন্যান্য ডেটা সংলগ্ন না হওয়া ইত্যাদি আরও কিছু তথ্যগত জটিলতা তৈরি করে। কিন্তু আসল কথা হলো এই সকল তথ্য কিন্তু মাউশির নিকট রয়েছে তাহলে এই তথ্যগুলোর বিষয়ে যে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে তার দায়ভারও নিশ্চয়ই মাউশির।

৩. বিভিন্ন পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা:
মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঝে সমন্বয়ের অভাব অনেক বড় সমস্যা। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন প্রদানে কখনও কখনও সাংগঠনিক জটিলতা বা আমলার স্বেচ্ছাচারিতা সমস্যা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ডেটা ভুলভাবে সংরক্ষিত হওয়া, বেতন ফাইল প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা এর পেছনে এক বড় কারণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন এককভাবে আইনি বা সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করা না হলে এর জটিলতা বাড়ে। এমনকি নতুন নিয়মের সাথে পুরনো ডেটার অনুপস্থিতি ইত্যাদি কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে। সর্বোপরি মাউশির একশ্রেণির কর্মকর্তারা কখনই চায়না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোন বিষয় সহজ ভাবে সমাধান হউক।

৪. ব্যাংকিং সুবিধা ও বাধা:
ইএফটি সিস্টেমে শিক্ষকদের বেতন সঠিকভাবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছানো খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কখনও কখনও ব্যাংকিং সিস্টেমে সমস্যা সৃষ্টি হয়। কিছু ব্যাংক এমনকি শিক্ষকদের অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে যাচাই না করেও টাকা পাঠিয়ে দেয়, এর ফলে অনেক সময় টাকা অন্য কোনো একাউন্টে চলে যায়, আবার কখনও কখনও এফটিতে পাঠানো টাকা শিক্ষকের একাউন্টে পৌঁছায় না। এটি কখনও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, কখনও আইনি জটিলতা আবার কখনও ডাটা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি হিসেবে সামনে আসে।

৫. প্রশাসনিক নীতির অভাব:
ইএফটি সিস্টেম চালু করার পরেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শিক্ষকদের প্রতি সরকারের মাউশির সচেতনতা ও সদিচ্ছার অভাবকেই প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা দেয়ার এবং তাদের সমস্যার সমাধান করার কোনো দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা দেখা যায় না। সরকার বা মাউশির পক্ষ থেকে বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব কিংবা অবহেলা রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ সুবিধা সংশোধন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর অভাব বড় সমস্যা হিসেবে কাজ করে।

৬. নতুন পদ্ধতির সঙ্গে শিক্ষকদের অপর্যাপ্ত অভ্যস্ততা:
ইএফটি সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষকরা প্রথমদিকে কিছুটা সংকোচ বা ভয়ের মধ্যে পড়েন। ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে এসেছে কিনা বা সঠিক পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা জানার জন্য শিক্ষকদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি শিক্ষকদের ভেতর আগের বিশ্বাসের অভাব তৈরি করে এবং এর ফলে তারা সিস্টেমকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেন না।

৭. শিক্ষকদের অধিকার এবং মর্যাদা:
ইএফটি সিস্টেম শিক্ষকদের জন্য প্রাথমিক সুবিধা আনলেও, এটি তাদের প্রকৃত অধিকার বা মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেনি। শিক্ষকদের সম্মান, বেতন বৃদ্ধি, এবং সামাজিক অবস্থানের উন্নতির জন্য সরকারের আরও কার্যকরী পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, যা এখনও দুর্বল এবং অপর্যাপ্ত।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সঠিক সমাধান:

  1. সঠিক তথ্য যাচাই এবং আপডেট:
    ইএফটি ব্যবস্থার সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বা মাউশির পক্ষ থেকে শিক্ষকদের তথ্য যাচাই ও নিশ্চিতকরণের জন্য নিয়মিত উদ্যোগ নেয়া উচিত।
  2. প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি:
    মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এবং ব্যাংকিং সেক্টরের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে শিক্ষকদের বেতন দ্রুত এবং সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে। এটি শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এবং তাদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করবে।
  3. ব্যাংকিং সিস্টেমের আধুনিকীকরণ:
    ব্যাংকগুলিকে আরো স্বচ্ছ এবং দ্রুত সেবা প্রদানকারী করে তোলার জন্য সিস্টেমের আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। এতে শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভোগান্তি হবে না এবং তারা দ্রুত তাদের বেতন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পাবেন।
  4. সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা এবং শিক্ষকদের প্রতি সম্মান:
    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নীতিমালা এবং ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি থাকা প্রয়োজন।


ইএফটি সিস্টেম যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তবে তা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে, সিস্টেমের অন্তর্নিহিত প্রযুক্তিগত সমস্যা, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের অভাবের কারণে এটি শিক্ষকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধান করতে হলে সমন্বিত, স্বচ্ছ এবং দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যার দায়িত্ব কিন্তু মাউশির নিকট মাউশি যদি ইচ্ছা করে তাহলে খুব সহজে এবং দ্রততর সময়ের মধ্যে এই সকল সমস্যা দূরীকরণ করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি ইএফটি!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme