গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্তমান সরকার ঘোষণা দেন যে, আগামী জানুয়ারী থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটিতে প্রদান করা হবে। সেই লক্ষ্যে মাউশি কে প্রচার ও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাউশি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ভাবেনি তখন যদি গুরুত্ব সহকারে ভাবত তাহলে তারা খুব দ্রুত একটি সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করত যে, কিভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি বাস্তবায়ন করা যায়। আসলে তারা কখনও ভাবেই নি যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা ইএফটিতে প্রদান করা হবে এবং তা বাস্তবায়ন তাদের মাধ্যমে করার নির্দেশনা আসবে। কারণ এই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা যদি ইএফটিতে প্রদান করা হয় তাহলে মাউশির একশ্রেণীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের সুদ বাণিজ্যের অবসান ঘটবে। যার কারণে তারা কখনও কোন ভাবেই চাননি যে, এই ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ন হউক। এমনকি তারা এখনও এটা কিভাবে বাতিল করা যায় তার জন্য বিভিন্ন ফন্দি ফিকির করেই চলেছে।
এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন: বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটি পদ্ধতিতে বেতন প্রদান শুরু হয়েছে ১লা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে। শুরু থেকেই এই নিয়ে বিড়ম্বনায় আছেন অনেক শিক্ষক-কর্মচারী। সম্প্রতি ইএফটিতে বেতন পাওয়ার জন্য তথ্য সংশোধন এর নির্দেশনা প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি করতে না পারলে এপ্রিল থেকে বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
আরও পড়ুন…..এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি ইএফটি!
এই নিয়ে ৫টি লটে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি ছাড় দিলেও এখনো অনেকে বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ বিবেচনায় আক্ষরিক, দাড়ি, কমা ও হাইফেন সংশোধন করেই বেতন দিলেও যাদের জন্ম তারিখ এর সাথে এমপিও সিস্টেমের সাথে মিল নেই তারা অবশ্যই তথ্য সংশোধন করতে হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই পর্যন্ত মোট ৪টি লটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের MPO EFT (এমপিও ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন-ভাতাদি ছাড় দেওয়া হয়েছে প্রথম লটে কোনো সমস্যাহীন ১,৮৯,৯০৭ জনের এবং ডট, হাইফেন, দাড়ি, কমা সংক্রান্ত অমিল এর সংশোধন করে ১,৫২,২২০ জনের ডিসেম্বর ২০২৪ মাসের বেতন ভাতা ব্যাংক হিসাবে প্রেরণ করা সম্পন্ন হয়েছে।
এমপিও শীটের সাথে জন্ম তারিখ অমিল আছে কিন্তু একই বছরে জন্ম তারিখ এবং নামের কোনো একটি অংশের অমিল সমৃদ্ধ ৮,২৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের ফাইল আইবাস++ সিস্টেমে অগ্রায়ণ করা হয়েছে যারা ৪র্থ ধাপে তাদের বেতনের টাকা বুঝে পেয়েছেন এর পরে ৫ম ধাপে আরও ৮,৮৮৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য যাচাই শেষে বেতন প্রদান করেছে।
এভাবে বেতন প্রদান করতে করতে এখনও প্রায় নতুন পুরাতন মিলিয়ে ৮ হাজার শিক্ষক কর্মচারী এখনও ডিসেম্বর মাসের বেতন পাননি। যাদের মাউশির তথ্য মতে বড় ধরনের তথ্যগত সমস্যা রয়েছে।
যেসকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতা ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ এবং ৫ম লটেও প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর EMIS পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইন প্রক্রিয়ায় এমপিও সংশোধন করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটিতে বেতন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্কুল ও কলেজ এর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ০৬ মার্চ ২০২৫ খ্রি: বৃহস্পতিবার রাত ১১:৫৯:০০ এর ভেতর এমপিও তথ্য সংশোধন আবেদন করবেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ স্কুল সমূহের শিক্ষকদের আবেদন অগ্রাণয়ন করবেন ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে।
আরও পড়ুন……২২ বছরের অভিশাপ থেকে মুক্তি কবে?
পর্যায়ক্রমে সকল আবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট শাখা ০৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন। কলেজ এর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিচালক অগ্রায়ণ করেই মাউশি সেল এ অনুমোদন এর জন্য চলে যাবে।
এনআইডি কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ, ব্যাংক একাউন্ট হিসাব এবং এমপিও তথ্যের সাথে যেসকল শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্যের অমিল আছে তারা ইএফটি মডিউলে বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন আবেদন প্রেরণ করতে হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের নিকট এমপিও সংশোধনে কি কি কাগজপত্র লাগবে এবং কিভাবে সংশোধন করতে হবে সেই বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। এই পর্যায়ে জানিয়ে দিব ইএমআইএস এমপিও পোর্টালে সংশোধন আবেদন প্রেরণ করতে কি কি লাগবে?
সংশোধন আবেদন এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
ক্রম | বিবরণ |
০১ | এমপিও সংশোধন এর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানের অগ্রায়ণপত্র |
০২ | ব্যাংক একাউন্ট স্লিপ, সার্টিফিকেট (প্রত্যয়নপত্র), হিসাব বিবরনী |
০৩ | যোগদান ও নিয়োগপত্র (আসল কপি) |
০৪ | শিক্ষক-কর্মচারী বিবরণী (সংযোজনী-খ) |
০৫ | বিষয় খোলার অনুমতিপত্র / সেকশন খোলার অনুমতিপত্র / প্রথম একাডেমিক স্বীকৃতি / পাঠদানের অনুমতি |
০৬ | সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ। (এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে জন্ম তারিখ সংশোধন এর ক্ষেত্রে বোর্ড থেকে এসএসসি সমমানের সনদ সত্যায়ন করে সংযুক্ত করতে হবে) |
০৭ | জাতীয় পরিচয়পত্র কপি। |
০৮ | অন্যন্য কাজগপত্র। |
এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
পূর্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও সংশোধনের জন্য ১৬টি অধিক তথ্য প্রয়োজন হতো কিন্তু বর্তমানে মাত্র ০৮ টি ডকুমেন্টস চাওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে আবেদন করা গেলে সহজেই এমপিও সংশোধন করে দেওয়া হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর ইএমআইএস পোর্টালের এমপিও মডিউলসমূহে কারেকশন নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ক্লিক করে কাঙ্খিত এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন আবেদন সাবমিট করতে হবে। প্রথমেই চলে যান emis.gov.bd ঠিকানায় লগইন বাটনে ক্লিক করে এমপিও কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে লগইন করুন।প্রতিষ্ঠান ইআইআইন এবং এমপিও কাজ করার জন্য নির্ধারিত পাসওয়ার্ড প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট পাওয়া যাবে।
ধাপ-১: সংশোধন করার জন্য এইচআরএম তালিকা থেকে কাঙ্খিত শিক্ষক বা কর্মচারীর তথ্য খুঁজে নিন। প্রয়োজনীয় এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন অপশনে চেক বা টিক চিহ্ন দিন। এখানে নাম, জন্ম তারিখ, পদবি, পদবি কোড, বেতন স্কেল, পদবির প্রকার এবং বিষয় পরিবর্তন করার অপশন দেখা যাবে।
আপনার আবেদন এর ধরণ অনুযায়ী যেকোন একটিতে বা একাধিক অপশন নির্বাচন করতে পারেন। যে অপশন বা ধরণটি নির্বাচন করবেন সেই অনুযায়ী সংশোধন যোগ্য বক্সে সঠিক তথ্য দিন।
ধাপ-২: এই ধাপে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল তথ্য দিন। প্রথমে এসএসসি, পরে এইচএসসি, এবং স্নাতকসহ সকল শিক্ষা তথ্য যোগ করবেন। বিএড এবং এনটিআরসিএ সনদ এর তথ্যও দিবেন। ফলাফল ইনপুট করার ক্ষেত্রে জিপিএ এবং মোট নম্বর সম্ভব হলে দিবেন।
ধাপ-৩: তৃতীয় ধাপে পেশাগত তথ্য থাকবে। বেতন স্কেল সংশোধন এর ক্ষেত্রে এখানে তথ্য এডিট করা লাগবে। অন্যথায় এগুলো পিডিএস থেকে সরাসরি চলে আসবে।
ধাপ-৪: ম্যানেজিং কমিটির সভায় এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন সংক্রান্ত গৃহিত সিদ্ধান্তের রেজুলেশন এর তথ্য এন্ট্রি করবেন। ইএফটিতে এমপিও সংশোধন এর ক্ষেত্রে রেজুলেশন এর বিষয়টি শিথীল করা হয়েছে তাই চাইলে ইগনোর করতে পারেন।
ধাপ-৫: এমপিও ইএফটি তথ্য সংশোধন এই ধাপে কোনো তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত এখানে মামলা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়।
ধাপ-৬: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটি। এখানে আপনার স্ক্যান করা ফাইলগুলো নির্ধারিত ঘরে ক্লিক করে আপলোড করুন। আপলোড হওয়ার পর পুনরায় প্রিভিউ অপশনে ক্লিক করে দেখে নিন। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
সবগুলো ফাইল আপলোড শেষ হলে পুনরায় যাচাই বাছাই করার পর একটি মন্তব্য লিখে সাবমিট দিয়ে দিন। এই সংক্রান্ত কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে এখানে কমেন্ট করুন। মনে রাখবেন ফাইল প্রেরণ করতে হবে ০৬ মার্চ ২০২৫ তারিখের মধ্যে।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে বিষয় তা হল এখন পর্যন্ত যারা এমপিওতে যারা যারা তথ্য সংশোধনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের সকলের ফাইল যে ফরোওয়ার্ড হয়েছে তা কিন্তু নয় অনেকের ফাইল কিন্তু রিজেক্ট হয়েছে তাদের কিন্তু পুনরায় আবেদন করতে হবে। এই বিষয় নিয়ে এত টেনশনের কিছু নাই। যাদের ফাইল ফরোওয়ার্ড হয়েছে যাচাই বাছাই শেষে ওকে হবে তাদের পরবর্তীতে সেই তথ্য মতে ইএফটির ড্যাশবোর্ডে পুনরায় তথ্য আপলোড দিতে হবে।
পরিশেষে যে কথা বলব তা হলো তথ্য সংশোধন নিয়ে এত টেনশন করবেন না, যদি তথ্যগত কোন কারণে আপনার বেতন বন্ধ হয়েও যায় তবে পুনরায় তথ্য সঠিক করে নিলেই আবার ইএফটিতে বেতন চালূ হয়ে যাবে। তাই তাড়াহুরা করে ভুল ভাবে সংশোধন না করে দেরি করে হলেও সঠিক ভাবে সংশোধন করার ব্যবস্থা করুন।
Leave a Reply